জাতীয়

খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ারে প্রধান উপদেষ্টা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:২৮ পিএম

খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ারে প্রধান উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতে গিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান।

বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং নিশ্চিত করেছে।

হাসপাতালে পৌঁছে সন্ধ্যা ৭টা ৭ মিনিটে তাকে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে যুক্তরাজ্যের চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল টিম ইতোমধ্যে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ড. রিচার্ড বিল দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, তারা প্রথমেই করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) গিয়ে খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর স্থানীয় মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করেন। রোগীর ক্লিনিক্যাল নোট, সর্বশেষ পরীক্ষার ফলাফল এবং ব্যবহৃত সব ধরনের সাপোর্ট সিস্টেমের তথ্য তারা বিশদভাবে পর্যালোচনা করেছেন। জানানো হয়েছে, খালেদা জিয়ার অবস্থা এখনও সংকটজনক হলেও তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন।

৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট বাড়লে তাকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার অবস্থা আরও জটিল হলে দুই দিন আগে তাকে কেবিন থেকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে এখন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে।

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুই মামলায় খালেদা জিয়া কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হন এবং দুই বছরের বেশি সময় কারাবন্দী থাকেন। পরে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে তার সাজা স্থগিত করে মুক্তি দেওয়া হয়। ছয় মাস পরপর সেই স্থগিতাদেশ নবায়ন করা হলেও বিদেশে চিকিৎসা নিতে তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট তিনি সম্পূর্ণ মুক্তি পান। এরপর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে চলতি বছরের ৬ মে দেশে ফেরেন তিনি।