জাতীয়

বেনজীরের ৪ ফ্ল্যাটের ৫৮৩ শাড়ি ও ১ হাজার টি-শার্ট ত্রাণ তহবিলে


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:২৯ পিএম

বেনজীরের ৪ ফ্ল্যাটের ৫৮৩ শাড়ি ও ১ হাজার টি-শার্ট ত্রাণ তহবিলে
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন গুলশানের চারটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট থেকে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ মালামাল সরকারি ত্রাণ তহবিলে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আদালতের নির্দেশে গত ১৪ ডিসেম্বর এসব সামগ্রী প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ভাণ্ডারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা সোমবার (২২ ডিসেম্বর) নিশ্চিত করেছেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।

সাধারণত বাজেয়াপ্ত সম্পদ নিলামে তোলা হলেও, আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মালামাল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দুদক তা ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার আবেদন জানায়। ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেন। এর ফলে অবৈধ আয়ের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ সরাসরি জনসেবায় ব্যবহৃত হতে যাচ্ছে।

গুলশানের ‘র‍্যাংকন আইকন টাওয়ার’-এর চারটি বিশাল ফ্ল্যাটে (১২/এ, ১২/বি, ১৩/এ ও ১৩/বি) তল্লাশি চালিয়ে যে তালিকা পাওয়া গেছে তা রীতিমতো বিস্ময়কর:পোশাক-আশাক: ৫৮৩টি দামী শাড়ি, ৩৩৫টি লেডিস প্যান্ট, ১২৮টি পুরুষ প্যান্ট, ১১৯টি শার্ট এবং ১১৮টি পাঞ্জাবি। এছাড়া ১ হাজার ৩২৭টি টি-শার্ট ও গেঞ্জি এবং ১৭৯ জোড়া জুতা-স্যান্ডেল পাওয়া গেছে। রান্নাঘর থেকে দামী ওভেন, এয়ার ফ্রায়ার ও ভ্যাকুয়াম ক্লিনারসহ আধুনিক ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম। ফ্ল্যাটের নামাজের ঘর থেকে ৩২টি দামী আতর, ১১টি জায়নামাজ ও ৪৮টি তসবিহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের লোগোযুক্ত মগ, দামী ট্রাভেল ট্রলি ও অসংখ্য শোপিস।

দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হকের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের একটি কমিটি এই মালামাল গ্রহণ ও ত্রাণ ভাণ্ডারে হস্তান্তরের দায়িত্ব পালন করে। পচনশীল দ্রব্য এবং ব্যবহৃত-অব্যবহৃত পোশাকগুলো এখন সরাসরি অভাবী মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হবে।