জাতীয়

সারজিসের হলফনামায় আয়ের তথ্যে গরমিল, সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেবে দুদক


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১০ পিএম

সারজিসের হলফনামায় আয়ের তথ্যে গরমিল, সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেবে দুদক
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া পঞ্চগড়-১ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী সারজিস আলমের হলফনামায় আয়ের তথ্যে গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন বলেন, “পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী সারজিস আলমের হলফনামা সংক্রান্ত বিষয়ে যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে কমিশন অবশ্যই তা খতিয়ে দেখবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

এর আগে মঙ্গলবার সকালে জাতীয় দৈনিক ডেইলি স্টার (বাংলা)–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া সারজিস আলমের হলফনামায় উল্লেখিত আয়ের তথ্যের সঙ্গে তাঁর আয়কর রিটার্নের তথ্যের অসামঞ্জস্য রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পঞ্চগড়-১ আসনের এই প্রার্থীর ঘোষিত আয়ের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৭ বছর বয়সী সারজিস আলম হলফনামায় নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বার্ষিক ব্যবসায়িক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ টাকা। তবে তাঁর ২০২৫–২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্নে বার্ষিক আয় উল্লেখ করা হয়েছে ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা, যা হলফনামায় ঘোষিত আয়ের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। এতে আয়ের দুটি ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।

শুধু আয় নয়, সম্পদের হিসাবেও অসংগতি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আয়কর রিটার্নে সারজিস আলম মোট ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য দিলেও হলফনামায় তুলনামূলকভাবে অনেক কম সম্পদের বিবরণ দিয়েছেন তিনি।

হলফনামা অনুযায়ী, সারজিসের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা। এর মধ্যে নগদ ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ১ লাখ টাকা এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে তিনি উপহার হিসেবে পাওয়া ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ কৃষিজমির কথা উল্লেখ করেছেন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা।

কর সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫–২৬ করবর্ষে তিনি ৫২ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন। নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণীতে সারজিস আলম উল্লেখ করেছেন, চারজন শুভাকাঙ্ক্ষী (আত্মীয় নন) ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি ১১ লাখ টাকা উপহার হিসেবে পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। পাশাপাশি একজন ব্যক্তির কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

নথিপত্রে আরও উল্লেখ আছে, শ্বশুর-শাশুড়ি এবং চাচা-মামাদের কাছ থেকেও তিনি উপহার হিসেবে অর্থ পাচ্ছেন। তবে ইসি ওয়েবসাইটে আপলোড করা স্ক্যান কপিতে টাকার অঙ্কের প্রথম অংশ অস্পষ্ট থাকায় সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি। দৃশ্যমান সংখ্যার ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, প্রত্যেকের কাছ থেকে তিনি অন্তত ১ লাখ টাকা করে পাচ্ছেন। এছাড়া শ্যালকের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে অন্তত ১ লাখ টাকা নেওয়ার তথ্যও দিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে দুদক জানিয়েছে, অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।