জাতীয়

নকল ও প্রশ্নফাঁসের দিন শেষ, শিক্ষাঙ্গণে শৃঙ্খলা ফিরবে : শিক্ষামন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

নকল ও প্রশ্নফাঁসের দিন শেষ, শিক্ষাঙ্গণে শৃঙ্খলা ফিরবে : শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস আর কোনোভাবেই ফিরে আসবে না বলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গণে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, অতীতে দায়িত্ব পালনকালে নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এবারও কঠোর নজরদারি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাকডেটেড’ বা সেকেলে শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সামনে এগোনো সম্ভব নয়। বিশ্ব এখন একটি গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে- সেই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে হবে। এজন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়ন এবং আধুনিক ও জ্ঞানভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “অতীতে কে কী করেছে, তার দায়ভার আমরা নেব না। তবে আমার দায়িত্বকালে কোনো দুর্নীতি হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হতে দেওয়া হবে না।” তিনি আরও জানান, এমপিওভুক্তি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভুক্তির ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

বেসরকারি শিক্ষকদের কম বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এবং সময় ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, একটি রাষ্ট্র গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্য ও নিরাপত্তা খাতে গুরুত্ব দেওয়া স্বাভাবিক। তবে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও যদি শিক্ষা খাত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার না পায়, তাহলে তা অত্যন্ত হতাশাজনক। আগে ঠিক করতে হবে- রাষ্ট্র হিসেবে আমরা কী চাই। অগ্রাধিকার নির্ধারণ না হলে বাজেট বণ্টনেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না।

তিনি উল্লেখ করেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের শিক্ষাবাজেট এখনও কম। এমনকি নেপাল ও শ্রীলঙ্কার চেয়েও কম বরাদ্দ শিক্ষা খাতে দেওয়া হচ্ছে। “বড় জ্ঞানী না হলেও সাধারণ বুদ্ধিতেই বোঝা যায়- টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি,” বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যে শিক্ষা খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও আধুনিকায়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।