জাতীয়

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন বোধগম্য: প্রধানমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৭ এএম

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন বোধগম্য: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় সংঘটিত সেনা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা–সার্বভৌমত্ববিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র বিদ্যমান ছিল। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আজ জনগণের কাছে সেই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনেকটাই স্পষ্ট ও বোধগম্য হয়ে উঠেছে।

বুধবার ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। বাণীতে তিনি ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত নারকীয় হত্যাযজ্ঞের কথা গভীর শ্রদ্ধা ও শোকের সঙ্গে স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০০৯ সালের এই দিনে বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় এক নৃশংস সেনা হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল। সেই ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন শহীদ হন।” তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়নি। তবে ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

শহীদদের স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “আজকের এই বিশেষ দিনে আমরা সেনা হত্যাযজ্ঞে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সমবেদনা জানাচ্ছি।”

বিচার প্রক্রিয়া ও ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পিলখানায় সংঘটিত সেনা হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো চলমান। বিচারাধীন বিষয় হওয়ায় এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব নয়। তবে নাগরিক হিসেবে আমাদের উপলব্ধিতে রাখা জরুরি যে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা–সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা সক্রিয় ছিল।

তিনি আরও বলেন, “এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর জনগণকে বিভ্রান্ত করতে নানা ধরনের মিথ্যা ও অপতথ্য ছড়ানো হয়েছিল। কিন্তু ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আজ জনগণের কাছে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য সত্য অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।”

সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সম্মান, বীরত্ব ও গৌরবের প্রতীক। ভবিষ্যতে যেন কেউ আর সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে, সে লক্ষ্যে আজ আমাদের আবারও শপথবদ্ধ হতে হবে।”

দেশ ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই হোক জাতীয় শহীদ সেনা দিবসের অঙ্গীকার ও প্রত্যয়।”