জাতীয়
আরে খিদা পাইছে আমার, বাপের বাড়িতে খেতে দিবেন না: প্রধানমন্ত্রী
নারীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বগুড়ায় সরকারের বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ পাইলট কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণের ফাঁকে ফাঁকে উপস্থিত এলাকাবাসীর সঙ্গে রসিকতা করেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্যের এক পর্যায়ে থেমে যান তিনি। এ সময় গ্রামবাসী তাকে আরও দুই ঘণ্টা বক্তব্য দিতে বলেন।
এসময় তিনি উপস্থিত এলাকাবাসীর সঙ্গে রসিকতা করে বলেন, ‘আরে খিদা পাইছে আমার। বাপের বাড়িতে খেতে দিবেন না? নামাজ বাকি, খাওয়া বাকি, খাল কাটা বাকি, জনসভা বাকি। আবার ঢাকায় যেতে হবে। আসব আবার, কথা বলব।’
আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দুই যুগ পর এই কলেজ মাঠে আজ আসতে পেরেছি। ১০ বছর ধরে এই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলাম। আজ নিজের গ্রামে এসে মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে পেরেছি। আগামী ৩০ তারিখের মধ্যে ২৩ উপজেলায় নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। ৫ বছরে সারা দেশে ৪ কোটি পরিবারের বেশির ভাগ মায়েদের হাতে এ কার্ড দেওয়া হবে।’
কয়েকজন বক্তা বাগবাড়ীকে উপজেলা ঘোষণার দাবি জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী চলমান ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে যেখান থেকে তেল-গ্যাস আমরা আনতাম, সে দেশগুলো আক্রান্ত হয়েছে। শুধু তা–ই নয়; যে জাহাজে করে আমরা তেল আনতাম, সেই রাস্তাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। তেল আনতেও কষ্ট হচ্ছে। যে দেশ থেকে তেল আনতাম, সেখানেও বাড়তি দাম। বাড়তি দাম দিয়ে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন আনতে হচ্ছে।
ফলে রাষ্ট্রের অনেক অর্থ চলে গেছে। এই অর্থ জনগণের। সেই কারণে বিবেচনা করে উন্নয়ন করতে হবে। এই এলাকা শহীদ জিয়ার জন্মস্থান। আপনাদের যেমন শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ওপর হক আছে, সারা দেশের মানুষেরও হক আছে। শুধু গাবতলী বা বাগবাড়ীতে উন্নয়ন করলে হবে? সারা দেশই উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। আমি তো আছিই আপনাদের কাছে, এলাকার উন্নয়ন হবে। কিন্তু সারা দেশের প্রতি নজর দিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রী ১০ জন নারীর হাতে প্রতীকী ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বাটন প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গে ৯১১ জন নারীর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পৌঁছে যায়।
সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, বগুড়ায় দিনব্যাপী একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর দুপুর দেড়টার দিকে প্রধানমন্ত্রী গাবতলীর বাগবাড়ী এলাকায় পৌঁছান। সেখানে সুবিধাভোগী নারীদের হাতে প্রতীকীভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন এবং কর্মসূচির লক্ষ্য ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি এবং তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বগুড়া-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার, একই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, ফ্যামিলি কার্ডের সুফলভোগী নারী ভারতী রানী ও বাবলী আকতার বক্তব্য দেন।