জাতীয়

‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম

‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার
ছবি: সংগৃহীত

সাধারণ মানুষের সম্মতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে এমন কর্মকাণ্ড করলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে নতুন আইনি কাঠামো কার্যকর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, নতুন প্রণীত সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী এসব অপরাধের তদন্ত সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী-এর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়, অনেকেই কনটেন্ট তৈরির নামে সাধারণ মানুষের ভিডিও ধারণ করে কুরুচিপূর্ণভাবে প্রচার করছেন এবং কখনও তা ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল বা চাঁদাবাজির ঘটনাও ঘটছে।

মন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল পাস হওয়া এই আইনের ২৫(১) ধারায় ডিজিটাল মাধ্যমে কাউকে ব্ল্যাকমেইল, যৌন হয়রানি বা ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়াকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। তবে ভুক্তভোগী নারী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে শাস্তি বেড়ে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।

এ ছাড়া ভিডিও দেখানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়কে ‘সাইবার প্রতারণা’ হিসেবে গণ্য করা হবে, যার জন্য ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণের জন্য জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালককে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে এসব কনটেন্ট ব্লক বা সরিয়ে ফেলা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। সাইবার অপরাধ শনাক্তে ‘সোয়ার’ ও ‘ইডিআর’-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তদন্ত কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে। এর মাধ্যমে অপরাধের উৎস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। বিদেশে অবস্থানকারী অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে পারস্পরিক সহায়তা আইন, ২০১২ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও নেওয়া হবে বলে সংসদকে জানানো হয়েছে।