জাতীয়

ঢাকায় পুনরায় ভিসা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ ভারতের


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম

ঢাকায় পুনরায় ভিসা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ ভারতের
গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন ভারতীয় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা ও নয়াদিল্লির পারস্পরিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভিসা কার্যক্রম পুনরায় সম্পূর্ণভাবে চালুর দিকে এগোচ্ছে দুই দেশ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তৈরি হওয়া অস্থিরতা কাটিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হচ্ছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা ক্যাটাগরির কার্যক্রম চালু করেছে। অন্যদিকে ভারতও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধাপে ধাপে ভিসা সেবা স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৭–৮ এপ্রিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভারত সফরের সময় ভিসা ব্যবস্থা সহজীকরণ নিয়ে দুই পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করে। বর্তমানে ভারতে বাংলাদেশি ভিসা সেন্টারগুলো—ঢাকায় হাইকমিশন এবং কলকাতা, আগরতলা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের কনস্যুলার অফিস—পুরোপুরি সচল রয়েছে।

বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানান, গত বছরের ডিসেম্বর কিছু সেন্টারে সাময়িকভাবে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তা পুনরায় চালু করা হয়েছে।

এদিকে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ আরও বাড়তে পারে। ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জ্বালানি সংযোগ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অগ্রগতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে গত বছর কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও ভিসা সেবা কখনোই সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ছিল না। বিশেষ করে চিকিৎসা ও পারিবারিক জরুরি ভিসাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া চালু রাখা হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা সেবা প্রায় ১৫–২০ শতাংশ কার্যকর রয়েছে, যেখানে মেডিকেল ও পারিবারিক ভিসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে দুই মাসে ১৩ হাজারের বেশি ভারতীয় ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়িক, পর্যটন, চিকিৎসা ও পারিবারিক ভিসা।

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে প্রায় ২১ লাখ বাংলাদেশি ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা নেমে আসে প্রায় ১৭ লাখে, আর ২০২৫ সালে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে দাঁড়ায় প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজারে, মূলত ভিসা সীমাবদ্ধতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে দুই দেশের জনগণের যাতায়াত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গতিশীল হবে।