জাতীয়

বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় শোক প্রস্তাব


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় শোক প্রস্তাব
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২ জুন) গৃহীত শোকপ্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক অনুলিপি ইতোমধ্যে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

শোকপ্রস্তাবের অনুলিপিতে উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিধানসভার অধিবেশনে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিচারণ করেন এবং তার সম্মানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

স্পিকার তার বক্তব্যে জানান, দীর্ঘ অসুস্থতার পর ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

তিনি আরও বলেন, ১৯৪৬ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। দিনাজপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষে তিনি সুরেন্দ্রনাথ কলেজে অধ্যয়ন করেন।

১৯৮১ সালে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দিয়ে ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

শোকপ্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার নেতৃত্ব বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি চারটি সাধারণ নির্বাচনে একাধিক আসনে অংশ নিয়ে প্রতিবারই জয়ী হন এবং ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্পিকার বলেন, খালেদা জিয়া দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়নে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শোকপ্রস্তাব শেষে বিধানসভার সদস্যরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে প্রধান সচিবকে শোকবার্তাটি মরহুমার পরিবারের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয় এবং অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা সচিবালয়ের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি সুমেন্দ্রনাথ দাস স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে শোকপ্রস্তাবের অনুলিপি ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে পাঠানো ওই চিঠিতে ঢাকাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে এটি মরহুমার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের মাধ্যমে শোকবার্তাটি সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।