জাতীয়
আদ-দ্বীন হাসপাতাল খুলে দেওয়ার আহ্বান সংসদে
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল এবং কার্যক্রম বন্ধের পরও অচলাবস্থা কাটেনি। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে সরকারের নির্ধারিত শর্ত পূরণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সম্মতি দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে।
আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক (প্রতিষ্ঠানবিষয়ক) তারিকুল ইসলাম মুকুল জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ত্রুটি সংশোধন করে সচিবের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এখন সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলা, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ থাকা এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহের অভাবের কারণেই একই দিনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। তিনি জানান, ওই সময় জরুরি চিকিৎসাসেবারও ঘাটতি ছিল।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, হাসপাতালের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে সিদ্ধান্ত নেবে, মেডিকেল কলেজের ভবিষ্যৎও তার ওপর নির্ভর করবে। তবে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে এবং তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন করেছে। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার প্রক্রিয়াগতভাবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও মেডিকেল কলেজের পাঠদান চলছে। তবে হাসপাতাল-সংযুক্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষানবিশ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিশেষ করে ভারত ও মালদ্বীপের ২৯৫ জন বিদেশি শিক্ষার্থী বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন। তাদের দাবি, নিজ নিজ দেশের নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজের হাসপাতালেই শিক্ষানবিশ সম্পন্ন করতে হয়। অন্য হাসপাতালে তা করলে ডিগ্রির স্বীকৃতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সরকারি সূত্র জানায়, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বেকারি না রাখা, ভবনের কাঠামোগত সংস্কারসহ কয়েকটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে লাইসেন্স পুনর্বহালের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। যেহেতু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব শর্ত মেনে নিতে রাজি হয়েছে, তাই জনস্বার্থ বিবেচনায় হাসপাতালটি আবার চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে সরকার।
এদিকে হাসপাতালটি দীর্ঘদিন স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসায় লাইসেন্স বাতিলের পর সাধারণ রোগীরাও সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। লাইসেন্স পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা নবজাতক মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও সাধারণ রোগীদের স্বার্থ রক্ষার দাবি জানান।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চেয়ারপারসন শিরীন পারভিনও দ্রুত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। একইভাবে বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের সংগঠনও বলেছে, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন হলেও একটি ঘটনার জন্য পুরো হাসপাতালের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।