জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসভবনকে কেপিআই ঘোষণা, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসভবনকে কেপিআই ঘোষণা, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এর ফলে বাসভবনটি এখন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন কেপিআই-সংক্রান্ত কমিটির মাসিক সভায় গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবনকে বিশেষ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। পরে সরকারি অনুমোদনের ভিত্তিতে ১৫ জুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় এবং ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর গুলশানের এই বাসভবন থেকেই রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা সরকারি কাজে প্রস্তুত থাকলেও তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন না।

বাসভবনটির মালিকানা প্রসঙ্গে জানা যায়, গত বছরের ৫ জুন অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার হাতে বাড়িটির নামজারির কাগজ হস্তান্তর করে। ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর গুলশানে প্রায় দেড় বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই বাড়িটি খালেদা জিয়ার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে নামজারি সম্পন্ন হওয়ার পর বাড়িটি সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হয়।

গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর তারেক রহমান এই বাসভবনে ওঠেন। পরে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরও তিনি সেখান থেকেই দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশেষ শ্রেণির কেপিআই ঘোষণার ফলে বাসভবনটির জন্য পৃথক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাষ্ট্রীয় নথিপত্র এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া হবে বিশেষ ব্যবস্থা।

নিরাপত্তা তদারকিতে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে আলাদা কমিটি গঠন করা হবে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন প্রেসিডেন্ট গার্ডস রেজিমেন্টের সদস্যরা। তাঁদের সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরাও নিয়োজিত থাকবেন।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেপিআই ঘোষিত স্থাপনার সীমানাপ্রাচীরের উচ্চতা কমপক্ষে ১২ ফুট হতে হবে এবং এর ওপর তিন ফুট উচ্চতার ‘ওয়াই’ আকৃতির কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন করতে হবে।

এ ছাড়া নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় আশপাশের উঁচু ভবন থেকে নজরদারি বা ছবি তোলা নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি মূল্যায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেপিআই স্থাপনার ১৫০ থেকে ৩০০ মিটারের মধ্যে নতুন কোনো উঁচু ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, স্থাপনার ২৫ মিটারের মধ্যে নতুন কোনো ভবন নির্মাণ করা যাবে না। পাশাপাশি আশপাশের বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি এবং ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা অপসারণের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সুরক্ষার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।