জাতীয়

বাংলাদেশকে মুসলিম বিশ্বের জন্য আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলুন: সাজ্জাদ নোমানী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম

বাংলাদেশকে মুসলিম বিশ্বের জন্য আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলুন: সাজ্জাদ নোমানী
ছবিঃ সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী স্কলার আল্লামা ড. খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানী (হাফিজাহুল্লাহ) বাংলাদেশকে মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি আদর্শ ও অনুসরণযোগ্য রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন ও স্থায়ী শান্তির ভিত্তি হলো নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা এবং সর্বস্তরে ইনসাফ (ন্যায়বিচার) প্রতিষ্ঠা।

গতকাল শুক্রবার (১৭ জুলাই) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজের আগে গুরুত্বপূর্ণ বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন। পরে জুমার নামাজ শেষে জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালিকের অনুরোধে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন।

বয়ানের শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করে তিনি বায়তুল মোকাররমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নাহলের ১১২ নম্বর আয়াতের আলোকে তিনি বলেন, একটি আদর্শ রাষ্ট্রের দুটি প্রধান ভিত্তি হলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানুষের খাদ্য ও জীবিকার নিশ্চয়তা দেওয়া। এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত থাকবে না এবং কেউ অভুক্ত থাকবে না।

তিনি সূরা ইবরাহিমের ৩৫ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে বলেন, নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য নবী-রাসুলরাও আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন। নিরাপত্তা আল্লাহর অন্যতম বড় নেয়ামত।

বাংলাদেশের জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশকে আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। সূরা ইবরাহিমের ৭ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে তিনি তা আরও বৃদ্ধি করে দেন।

দেশের আলেম-উলামা, শিক্ষাবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যা বিশ্বের সামনে আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সরকার, বিরোধী দল, সংসদ সদস্য, প্রশাসন ও সমাজের সব স্তরের মানুষের প্রতি তিনি প্রতিদিন অর্থসহ কুরআন অধ্যয়ন এবং এর শিক্ষা অনুধাবনের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা কেবল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না; বরং এর প্রকৃত ভিত্তি হলো ন্যায়বিচার, সমতা ও ইনসাফ। বৈষম্য, জুলুম ও অধিকার হরণের সংস্কৃতি সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

প্রতিবেশীর অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশী মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা অন্য যেকোনো ধর্মের হোন না কেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো, খোঁজ নেওয়া এবং প্রয়োজনে সহযোগিতা করা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

তিনি সবাইকে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা বহু বছরের দূরত্ব ও অবিশ্বাস দূর করতে পারে।

সাজ্জাদ নোমানী আরও বলেন, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব স্তরে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হলে মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে, ভয় দূর হবে এবং স্থায়ী শান্তি ফিরে আসবে।

তিনি সরকারি সম্পদ রক্ষা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ থেকে বিরত থাকা, সড়কে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করা, নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করা এবং পারস্পরিক ভালোবাসা ও মানবিক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

বয়ানের শেষাংশে তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় যে সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা শক্তি বা ভয়ের মাধ্যমে নয়; বরং ইনসাফ, ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছিল। সেই আদর্শ ব্যক্তি ও সমাজজীবনে অনুসরণ করা গেলে বাংলাদেশও একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।