জাতীয়
মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে সেনা আইনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে করার জন্য তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমেই তার বিচার সম্পন্ন হবে।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সদর দপ্তর পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর আগে এই মামলার অন্যান্য আসামিদের বিচার সামরিক আদালতে হয়েছে এবং সেই রায়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে। আগের রায়ে যারা দণ্ডিত হয়েছেন বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, তাদের রায়ের আলোকে মোজাফফর হোসেনের ক্ষেত্রে কোনো পর্যবেক্ষণ প্রযোজ্য কি না, তা জেনারেল কোর্ট মার্শাল সংশ্লিষ্ট আইনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করবে। একই মামলায় তাকে সিভিল আইনে পুনরায় অভিযুক্ত করা আইনসম্মত হবে কি না, সেটিও বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হবে।
তিনি আরও জানান, অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোজাফফর হোসেনকে ঢাকায় আনা হয়েছে। সরকারের নির্দেশে রোববার সামরিক হেলিকপ্টারে তাকে রাজধানীতে নেওয়া হয়।
গত ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় ৪৫ বছর পলাতক ছিলেন তিনি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন মোজাফফর হোসেন এবং পরবর্তীতে ছদ্মনাম ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, জিয়াউর রহমানকে প্রথম শনাক্ত করে গুলি চালান মেজর মোজাফফর হোসেন। এ ঘটনায় সামরিক ট্রাইব্যুনালে ১৮ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড হয়। তবে পালিয়ে যান মোজাফফর হোসেন ও মেজর খালেদ।
অন্যদিকে সীমান্তে পুশইন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও স্থানীয় জনগণের সহায়তায় সীমান্তে নজরদারি জোরদার করে তা প্রতিরোধ করা হয়েছে। কিছু অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের মাধ্যমে তালিকা পাঠাতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বৈধ প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। অন্য কোনো উপায়ে কাউকে দেশে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না।