জাতীয়
নিরাপদে দেশত্যাগের সমঝোতায় পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন!
নিরাপদে দেশত্যাগ ও নির্বিঘ্ন প্রস্থানের নিশ্চয়তা পাওয়ার পর রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সঙ্গে আলোচনার পর এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন তিনি বলে জানা গেছে।
সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পদে থাকা অবস্থায় নিরাপত্তা ও অবাধ চলাচলের আশ্বাস পেলেও রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের কোনো অভিযোগ, কেলেঙ্কারি বা মামলার দায়ভার নিতে রাজি হয়নি বিএনপি। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা জানিয়েছেন, সংবিধানের আওতায় দায়িত্ব পালনকালে নেওয়া সিদ্ধান্তে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হলেও অতীত কর্মকাণ্ডের দায় দল বহন করবে না।
বিএনপির পক্ষ থেকে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত বিদেশে চলে যাওয়া সাহাবুদ্দিনের জন্য নিরাপদ হতে পারে। পদত্যাগের পর সাবেক এই রাষ্ট্রপতি নিজেও জানিয়েছেন, শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরাসরি মন্তব্য না করলেও জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে এবং দলীয় বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাও আগে থেকেই এ সমঝোতা সম্পর্কে অবগত ছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের মতে, রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিশংসনের চাপ থাকায় শেষ পর্যন্ত একটি ‘সম্মানজনক প্রস্থান’-এর পথই বেছে নেওয়া হয়েছে।
তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতাকেই সামনে আনা হয়েছে। স্পিকার ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অসুস্থতার কারণেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো মামলা হলে তা আইন অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে এবং সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুরক্ষা বহাল থাকবে।
অন্যদিকে, অতীতের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়িত্ব পালন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে ভূমিকা এবং এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এসব বিষয়ে কোনো দায় নেবে না বিএনপি।
এছাড়া বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের এক প্রতিবেদনে ২০১৭ সালে সাহাবুদ্দিনের ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।
গত ২৪ জুলাই স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে পদত্যাগ কার্যকর করা হয় এবং স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
পদত্যাগের পর নিয়ম অনুযায়ী ভিভিআইপি সুবিধা বহাল থাকলেও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদের কারণে তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে রাজধানীর গুলশানে তার জন্য একটি বাসস্থান প্রস্তুত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই তিনি বঙ্গভবন ছেড়ে সেখানে উঠতে পারেন।