জাতীয়

র‍্যাব বিলুপ্ত করে আনা হচ্ছে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৭ পিএম

র‍্যাব বিলুপ্ত করে আনা হচ্ছে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আলোচিত ও সমালোচিত র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত আইনে বাহিনীর দায়িত্ব ও কার্যপরিধির বড় অংশ বহাল রাখা হলেও জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য যুক্ত করা হয়েছে একাধিক নতুন বিধান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমতের জন্য নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। খসড়া অনুযায়ী, বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠন করা হবে। বাহিনীর নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে এবং ঢাকায় সদর দপ্তর থাকলেও দেশের যেকোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ থাকবে।

খসড়া আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজনগুলোর একটি হলো ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’। নতুন বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অসদাচরণ, হয়রানি বা অনিয়মের অভিযোগ সরাসরি করতে পারবেন সাধারণ নাগরিক। এসব অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির জন্য গঠিত কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, এসআরবির প্রতিনিধি এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অভিজ্ঞ একজন সরকার মনোনীত সদস্য থাকবেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে এই কমিটি।

প্রস্তাবিত আইনে এসআরবির দায়িত্ব হিসেবে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, সাইবার অপরাধ, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালত, সরকার বা পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও থাকবে বাহিনীটির। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে নির্ধারিত ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তার পরিচালনার ক্ষমতাও বহাল রাখা হয়েছে।

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও সদস্যদের প্রেষণে এনে এসআরবি গঠন করা যাবে। তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে দিতে হবে এবং তদন্তে ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশন অনুসরণ বাধ্যতামূলক থাকবে। এ জন্য বাহিনীর নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

নতুন আইনে সদস্যদের জন্য পৃথক আচরণবিধি ও শৃঙ্খলাবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, বেআইনিভাবে অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা, মাদকাসক্ত অবস্থায় দায়িত্ব পালন কিংবা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো সদস্য পলাতক হলে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে লিখিতভাবে অনুরোধ করার বিধানও রাখা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, আইনটি কার্যকর হলে র‍্যাবের বিদ্যমান সব জনবল, সম্পদ, তহবিল, দায়-দায়িত্ব, চলমান মামলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হবে। নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত র‍্যাবের বর্তমান কার্যবিধি প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ কার্যকর থাকবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনমত গ্রহণ শেষে খসড়াটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামতের জন্য পাঠানো হবে। পরে মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে এটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন আইনে বাহিনীর নাম ও সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হলেও অভিযান, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও তদন্তের মতো মৌলিক ক্ষমতা বহাল রাখা হয়েছে। তবে নাগরিকদের অভিযোগ তদন্তে পৃথক কমিটি এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার সংযোজনকে নতুন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।