জাতীয়

আগামী ১০ বছরের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরবে সরকার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম

আগামী ১০ বছরের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরবে সরকার
ছবিঃ সংগৃহীত

আগামী ১০ বছরের জন্য দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রবিবার (০৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত গুটিকয়েক ব্যক্তির স্বার্থে পরিচালিত হয়েছে। তাদের সুবিধা নিশ্চিত করতে এমন কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যা দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এখন জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে নতুন করে সাজাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের জ্বালানি পরিকল্পনা কী হবে এবং আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই প্রস্তাবনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপনের মধ্য দিয়েই এর বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।’

জ্বালানি খাত নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি গুটিকয়েক মানুষ এ বিষয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। বিএনপি সরকার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করবে। কারও নিজস্ব কোনো পরিকল্পনা থাকলে সেটিও জনগণের সামনে উপস্থাপন করা উচিত। তবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা মানুষের শান্তি নষ্ট করতে দেওয়া হবে না।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে জ্বালানি ও নিরাপত্তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে শান্তি ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগকারীরা চান, তাদের কারখানায় উৎপাদিত পণ্য যেন নির্বিঘ্নে বন্দরে পৌঁছাতে পারে এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামালও সময়মতো দেশে আনা সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, শিল্পকারখানা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট থাকলে নতুন শিল্প স্থাপন ও বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। তাই দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। 

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে চীনকে বড় একটি শিল্পাঞ্চল তৈরির জন্য জায়গা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি চীন সফরের সময় দেশটির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, আনোয়ারায় কয়েকশ মিল-কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব শিল্পকারখানা চালু হলে চট্টগ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে একদিকে বেকারত্ব কমবে, অন্যদিকে রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

কৃষকদের জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। শুধু ধান, পাট, শাকসবজি কিংবা অন্যান্য ফসল উৎপাদনকারী কৃষকরাই নন, বাঁশখালীর লবণচাষিরাও এই কার্ডের আওতায় আসবেন।

লবণচাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, লবণের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এমন একটি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে লবণচাষিরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন।

তিনি বলেন, ‘আস্তে আস্তে, ইনশাআল্লাহ আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমরা সেই দামটি সবাইকে জানিয়ে দেব। এর ফলে লবণচাষিদের আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।’

সমাবেশে বাঁশখালী উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরে সারাদেশে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঁশখালী এলাকায় প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।