জাতীয়
সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী
সমাজের সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে একটু একটু করে এগিয়ে এলে বড় বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে বেসরকারি খাতকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, জনকল্যাণমূলক কাজে যারা অংশ নিতে চান, সরকার সবসময় তাদের পাশে থাকবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সিলেট বিভাগের চা-বাগান শ্রমিকদের প্রতিকূল আবহাওয়ায় সুরক্ষার জন্য বেসরকারি খাতের সামাজিক দায়বদ্ধতার তহবিলের সহায়তায় ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের ১০ জন চা-শ্রমিকের হাতে রেইনকোট তুলে দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি শ্রমিকদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে নেওয়া এ কর্মসূচির আওতায় সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন চা-বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য মোট ২০ হাজার রেইনকোট দেওয়া হচ্ছে।
এর মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ১০ হাজার, শেভরন বাংলাদেশ ৫ হাজার এবং পাণ্ডুঘর গ্রুপ ৫ হাজার রেইনকোট সরবরাহ করছে।
অনুষ্ঠানে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা বলেন, ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া ও শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখা সামাজিক দায়বদ্ধতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতেও চা-শ্রমিকসহ বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় জানান তারা।
রেইনকোট গ্রহণের সময় শ্রীমঙ্গলের মাজদিহি চা-বাগানের শ্রমিক সন্তুকী রায় চা-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা হিসেবে চা-পাতা উপহার দেন। এ সময় চা-শ্রমিকদের পক্ষ থেকে শান্তি উড়িয়া, মুন্নী কুর্মি, জ্যোৎস্না আক্তার, রিনা তাঁতী, শশিকা ব্যানার্জি, কবিতা কর্মকার, সুজাতা বিশ্বাস, রিতা রাণী বাউরী ও আফখাতুন নাহার উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার-১ আসনের নাসির উদ্দিন মিঠু, মৌলভীবাজার-২ আসনের মো. শওকতুল ইসলাম, মৌলভীবাজার-৩ আসনের এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, হবিগঞ্জ-৩ আসনের আলহাজ মো. জি কে গউছ এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনের এস এম ফয়সাল উপস্থিত ছিলেন।
বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোসাদ্দেক হোসেন, উপদেষ্টা তপন চৌধুরী, কার্যকরী সদস্য সিমিন রহমান ও নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম; শেভরন বাংলাদেশের পরিচালক মো. ইমরুল কবির, আশিক শেহজাদ রহমান ও কমিউনিটি সম্পৃক্ততা বিভাগের প্রধান একেএম আরিফ আখতার এবং পাণ্ডুঘর গ্রুপের জনবল ও করপোরেট বিষয়ক প্রধান গোলাম হাবিব উপস্থিত ছিলেন।