জাতীয়

আবারও চালু এক্সিলারেটের টার্মিনাল, বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

আবারও চালু এক্সিলারেটের টার্মিনাল, বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ
ছবি: সংগৃহীত

এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিন দিন বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হয়েছে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল। স্পট মার্কেট থেকে কেনা ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের একটি এলএনজিবাহী কার্গো নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই পৌঁছানোর পর টার্মিনালে এলএনজি খালাস শুরু হয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহও বাড়তে শুরু করেছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পেট্রোবাংলা।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, তিন দিন আগে এক্সিলারেটের টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি শেষ হয়ে যায়। এতে টার্মিনালটি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে, যেখানে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়।

এর আগে পেট্রোবাংলা জানিয়েছিল, এক্সিলারেটের জন্য পরবর্তী এলএনজি কার্গো রোববার পৌঁছাতে পারে। ফলে এর আগে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা ছিল না। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই কার্গোটি পৌঁছানোয় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে সামিটের টার্মিনালের জন্য আনা আরেকটি এলএনজি কার্গোও বন্দরে পৌঁছেছে। এতে ওই টার্মিনালে এলএনজির মজুত বেড়েছে। তবে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামিটের টার্মিনাল এরই মধ্যে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় প্রতিদিন প্রায় ৫৭ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। ফলে নতুন কার্গো আসলেও তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের সুযোগ নেই।

গত বুধবার দুপুরের পর এক্সিলারেটের টার্মিনালে সরবরাহযোগ্য এলএনজির মজুত শেষ হয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তবে সামিটের অন্য টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত ছিল।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৫৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একই সময়ে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে সরবরাহ ছিল ১৬২ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। সব মিলিয়ে ওই সময়ে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ছিল ২১৯ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট।

দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সে হিসাবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল প্রায় ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ ঘাটতি ছিল প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট।

দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে বৃহস্পতিবার সরবরাহ হয়েছে সক্ষমতার প্রায় ৫২ শতাংশ।