জাতীয়

জাতিসংঘে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবিক রাষ্ট্রের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

জাতিসংঘে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবিক রাষ্ট্রের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, মানবাধিকার, বিশ্বশান্তি ও একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার বার্তা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষের অধিকার, দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বিষয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

বুধবার বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন। তিনি জানান, জাতিসংঘের অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক এবং বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে এমন একটি মানবিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, যেখানে মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে। তাঁর দাবি, সফরকালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, যা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি, মানবতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বলেও জানান মাহদী আমিন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠকেও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা, বিশ্বশান্তি এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংকট সমাধানে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য মিয়ানমারকেই কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেছে বলেও জানান তিনি। জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকেও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাহদী আমিন আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের কথা তুলে ধরেছেন এবং স্বনির্ভর ও উন্নত বাংলাদেশের একটি ভবিষ্যৎ রূপরেখা বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি জানান। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো, অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির বিষয়টিও দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্য, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, বৈঠকে গত সাত মাসে সরকার মানবাধিকার সুরক্ষা ও জনকল্যাণের বিষয়গুলোকে কীভাবে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছে, সেসব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন পর একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার অনুভূতিও প্রকাশ করেন বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, এর মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’সহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনার বিষয়ও বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে বিমান চলাচল খাত নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মাহদী আমিন জানান, বোয়িংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ বিমানের বহর সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিমানের বহর আরও বড় করার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাংবাদিকদের সরাসরি প্রেস ব্রিফিং আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহদী আমিন বলেন, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের যথাসময়ে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সরকারের মানবিকতাকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করা হলে তা কারও জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে দেশে কঠোর ও দমনমূলক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করতে চান।

সালেহ শিবলী আরও বলেন, যারা একটি নতুন ও মানবিক বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যেতে চান, তাদের ধৈর্য ধরতে হবে। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না এবং অতীতে রিমান্ডসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি বর্তমান অবস্থানে এসেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি সমৃদ্ধ ও শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, ভিন্ন কোনো ঘটনা ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের সাফল্য আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে নিউইয়র্ক সফরের শুরু থেকেই মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর সফরকে বাংলাদেশের স্বার্থ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।