রাজনীতি

১২ কোটি টাকার জন্য আমাকে অপহরণ করতে চেয়েছিল ছাত্রলীগ নেতা: শ ম রেজাউল


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৫, ০২:৫১ পিএম

১২ কোটি টাকার জন্য আমাকে অপহরণ করতে চেয়েছিল ছাত্রলীগ নেতা: শ ম রেজাউল
শ ম রেজাউল করিম ও নাজিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মো. তরিকুল ইসলাম চৌধুরী তাপস। ছবি: সংগৃহীত

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর দেশ ছাড়তে বাধ্য হন আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। দেশ ছাড়ার আগ মুহূর্তে এক নাটকীয় ঘটনার মুখোমুখি হন তিনি—নিজ উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতার অপহরণচেষ্টার হাত থেকে রক্ষা পান ভাগ্যক্রমে।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সাংবাদিক ফজলুল বারীর ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাউল করিম এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি তারিকুল ইসলাম চৌধুরী তাপস অপহরণ করে তার কাছ থেকে ১২ কোটি টাকা আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন।

৫ আগস্টের ঘটনার পর রাজধানীর ন্যাম ভবন থেকে পালিয়ে বসুন্ধরার এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেন রেজাউল করিম। সেখানেই একদিন হঠাৎ তার বাসার দরজায় কড়া নাড়ে ছাত্রলীগ নেতা তাপস। সে জানায়, প্রশাসন ও হ্যাকারদের সঙ্গে সে এসেছে এবং তাদের দাবি ১২ কোটি টাকা। দর-কষাকষির এক পর্যায়ে দাবি নেমে আসে পাঁচ কোটিতে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অপহরণের চেষ্টা চলে। তাকে জোর করে লিফটে তুলতে গিয়ে ধস্তাধস্তিও হয়।

একজন বিশ্বস্ত স্টাফ মোটরসাইকেলে এসে উপস্থিত হলে রেজাউল করিম কোনোভাবে উঠে পালাতে সক্ষম হন। পেছনে ধাওয়া করে অপহরণকারীরা, কিন্তু তিনি একটি গ্রামীণ এলাকায় গিয়ে আত্মগোপন করেন। এসময় তার স্ত্রী ও ভাইকেও হুমকি দেওয়া হয়, এবং তাদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়।

মো. তরিকুল ইসলাম চৌধুরী তাপস। ছবি: সংগৃহীত

পরবর্তীতে নিরাপত্তার অভাব অনুভব করে সীমান্ত পথে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন শ ম রেজাউল করিম। এক সাবেক এমপি ও নিজের ভাইয়ের সহায়তায় সীমান্তে পৌঁছান তিনি। মানবপাচারকারীদের দয়ায়, কোনো রকম অর্থ না দিয়েই, একটি কর্দামাক্ত পুকুর ও কাঁটাতারের ঝোঁপের ভেতর দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ওপারে পৌঁছান। সেখানে তাকে গ্রহণ করে এক প্রবাসী বাংলাদেশির বাসায় রাখা হয়।

পরে কলকাতা পৌঁছে সেখানকার সরকারি কর্মকর্তাদের সহায়তায় তার পাসপোর্টে আগমন সিল ও এক্সিট পারমিশন সংগ্রহ করে তিনি অন্য একটি দেশে (নাম প্রকাশ করেননি) চলে যান।

সাক্ষাৎকারে শ ম রেজাউল বলেন, ‘‘এটা ছিল জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। মনে হয়েছে আমি যেন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। আল্লাহর অশেষ কুদরতে আমি বেঁচে গেছি।’’

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের আগের দিনও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল তার। কিন্তু পরদিন সকালে যখন ন্যাম ভবন ঘিরে মব জড়ো হয়, তখন তিনি একমাত্র বাসিন্দা ছিলেন সেই ভবনে। বিদ্যুৎ বন্ধ করে, দরজা বন্ধ করে তিনি আত্মগোপনে থাকেন। পরে এক কৃতজ্ঞ লোক, যার স্ত্রীকে আগে আইনি সহায়তা দিয়েছিলেন, তাকে বের করে আনতে সাহায্য করে।

রেজাউল করিম জানান, “আমি একটি গেঞ্জি গায়ে দিয়ে, পায়ে স্পঞ্জ আর মুখে মাস্ক পরে অসুস্থতার ভান করে বের হই। পরিবারের সদস্যদের নিয়েই আমরা অন্য একটি আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিই।”