রাজনীতি

কলকাতায় চলছে আওয়ামী লীগের ‘পার্টি অফিস’ কার্যক্রম


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৫, ০৪:০২ পিএম

কলকাতায় চলছে আওয়ামী লীগের ‘পার্টি অফিস’ কার্যক্রম
ছবি: সংগৃহীত

গেল বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী দেশ ছাড়েন। তাদের মধ্যে একটি বড় অংশ পাড়ি জমিয়েছেন পার্শ্ববর্তী ভারতে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায়।

এবার জানা গেছে, সেখানেই গোপনে চালু হয়েছে আওয়ামী লীগের একটি ‘পার্টি অফিস’, যেখানে নিয়মিত বৈঠক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। এ তথ্য সম্প্রতি বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কলকাতার একটি বাণিজ্যিক এলাকার কমপ্লেক্সের ভেতরে কার্যক্রমটি চলছে। লিফট দিয়ে উপরে উঠে বাঁ দিকে গেলে সারিবদ্ধ দফতরের মধ্যে একটি ঘরই আওয়ামী লীগের এই অফিস। ২,৫০০ থেকে ২,৬০০ বর্গফুট আয়তনের কক্ষটির বাইরে বা ভেতরে কোথাও নেই কোনো সাইনবোর্ড, শেখ হাসিনা কিংবা বঙ্গবন্ধুর ছবি—যাতে এর রাজনৈতিক পরিচয় বোঝা না যায়। এমনকি দলীয় নথিপত্রও সেখানে রাখা হয় না। পূর্বে যে প্রতিষ্ঠান এখানে কাজ করত, তাদের ফেলে যাওয়া চেয়ার-টেবিলই এখন ব্যবহৃত হচ্ছে।

এক আওয়ামী লীগ নেতা বিবিসিকে জানান, উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি নির্দিষ্ট জায়গা রাখা যেখানে দলীয় নেতারা দেখা-সাক্ষাৎ ও ছোটখাটো বৈঠক করতে পারবেন। এখানে ৩০-৩৫ জনের বৈঠক হয়, তবে বড় বৈঠকের জন্য রেস্তোরাঁ বা ব্যাংকয়েট হল ভাড়া নেওয়া হয়। অনেক ছোট বৈঠক এখনো নেতাদের বাসাবাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৫ আগস্টের পর কলকাতা ও আশপাশে বসবাস শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বহু শীর্ষ নেতা, সাবেক মন্ত্রী, পেশাজীবী, প্রাক্তন সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তা। মাস ছয়েক আগে দলীয় সূত্র জানিয়েছিল, অন্তত ৭০ জন সাবেক সংসদ সদস্যসহ শীর্ষ নেতৃত্বের প্রায় ২০০ জন কলকাতা অঞ্চলে বসবাস করছেন। কেউ পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে আছেন, আবার কেউ ভাড়া ফ্ল্যাটে সহকর্মীদের সঙ্গে থাকছেন।

বর্তমানে দ্বাদশ সংসদের প্রায় ৮০ জন সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্যসহ আরও ১০-১২ জন নেতা সেখানে রয়েছেন। কিছু নেতার পরিবার বাংলাদেশ থেকে গিয়ে কিছুদিন থাকেও। কেউ কেউ কলকাতা হয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা অন্যান্য দেশে পাড়ি দিয়েছেন।

অফিস খোলার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী নেতারা আসেন, তবে প্রতিদিন নয়। রাজনৈতিক কার্যক্রমের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান নিশ্চিত করতেই এই ‘পার্টি অফিস’ চালু করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

তবে কলকাতার কোন এলাকায় বা সুনির্দিষ্ট ঠিকানায় এই অফিসটি অবস্থিত, তা প্রকাশ করেনি বিবিসি।