রাজনীতি

নির্বাচন বন্ধ করাই লক্ষ্য, আন্দোলন সহিংস হতে পারে: ভারতীয় গণমাধ্যমে জয়


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৭ এএম

নির্বাচন বন্ধ করাই লক্ষ্য, আন্দোলন সহিংস হতে পারে: ভারতীয় গণমাধ্যমে জয়
সজীব ওয়াজেদ জয়। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা যখন ক্রমেই বাড়ছে, তখন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে মন্তব্য করেছেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের লক্ষ্য নির্বাচন বন্ধ করা এবং সেই আন্দোলন রাজধানী ঢাকায় সহিংসতায় রূপ নিতে পারে।

সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, “এই মুহূর্তে আমাদের লক্ষ্য হলো নির্বাচন বন্ধ করা।” তিনি জানান, নির্বাচন আয়োজনের বিরুদ্ধে দলটি আন্দোলনে নামবে এবং বর্তমান বাস্তবতায় সেই আন্দোলন শান্তিপূর্ণ নাও থাকতে পারে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবাদ ঢাকাকেন্দ্রিক সহিংসতায় রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তাঁদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত কিছু ঘটনা, হামলার অভিযোগ ও নাশকতার আশঙ্কা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। ফলে পরিকল্পিত অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া জয়ের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলগুলো এই মন্তব্যকে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বানচালের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে এবং এটিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যের এমন প্রকাশ্য বক্তব্য নির্বাচনের আগে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। তাঁদের ধারণা, এ ধরনের মন্তব্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ ও চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্য নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা বা অবস্থান জানানো হয়নি। তবে দলটির একাধিক নেতার দাবি, নির্বাচন ঘিরে উদ্ভূত সংকটের জন্য সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকার দায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত। এই প্রেক্ষাপটে বিদেশি গণমাধ্যমে দেওয়া এমন মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।