রাজনীতি

সময় খুব সীমিত, সরকারকে বেশি দিন সুযোগ দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম

সময় খুব সীমিত, সরকারকে বেশি দিন সুযোগ দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত

সরকারকে আর বেশি সময় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং এই সময়ের মধ্যে পরিবর্তন না এলে কঠিন পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেন, সরকারকে জনগণের রায় মেনে নিতে হবে। অন্যথায় ১৯৯৬ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। সে সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর জন্য সরকারকে বাধ্য করা হয়েছিল—এবারও জনচাপের মুখে একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, “জনগণের দাবি শান্তিপূর্ণভাবে মেনে নিন, মানুষকে রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না।”

নেতাকর্মীদের ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমন করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে তারা বারবার কারাগারে যেতে এবং প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত।

সমাবেশে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদও বক্তব্য দেন।

সরকারের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রশাসনে একজন ‘সর্ববিষয় বিশারদ’ মন্ত্রী সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন জেলায় গিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন। বিশেষ করে কক্সবাজারে দেওয়া এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিরোধী দল বাজেটে মাদকদ্রব্যের কর বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া জাতির জন্য ক্ষতিকর।

বাজেট নিয়ে সমালোচনা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমালোচনাকে সহনশীলভাবে গ্রহণ করা উচিত ছিল।

জাতীয় সংসদে বিরোধী মত প্রকাশের সুযোগ নেই দাবি করে তিনি বলেন, “আমরা এখন জনগণের সংসদ—রাজপথে অবস্থান করছি।”

এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচিত সরকার গঠনের পর চাঁদাবাজি কমার আশা থাকলেও বাস্তবে তা বেড়েছে এবং দুর্নীতি আরও বিস্তৃত হয়েছে।