রাজনীতি
পিআর পদ্ধতি জনগণের কাছে অচেনা, চাপিয়ে দিলে বাড়বে অস্থিরতা: রিজভী
বাংলাদেশে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতি জনগণের কাছে অপরিচিত উল্লেখ করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই পদ্ধতি হঠাৎ চাপিয়ে দিলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন রিজভী।
রিজভী বলেন, "এই দেশে ভোটাররা দীর্ঘদিন ধরে প্রার্থীভিত্তিক ভোটে অভ্যস্ত। এখন যদি প্রার্থী নয়, দলকে ভোট দিতে হয়—তাহলে সেটা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হতে পারে। এতে রাজনৈতিক দলগুলো আরও কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠবে এবং বিত্তশালী, বিতর্কিত ব্যক্তিদের পক্ষে এমপি হওয়া সহজ হয়ে যাবে।"
স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিত্ব হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা জানিয়ে তিনি বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে জনগণের সরাসরি সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়ে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ভালো নয়।
রিজভী দাবি করেন, ইউরোপ ও জাপানের মতো উন্নত অনেক দেশেও এখনো এই পদ্ধতি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। তাহলে বাংলাদেশের মতো একটি দেশে এত বড় পরিবর্তন হঠাৎ কেন আনা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এ সময় তিনি সাম্প্রতিক নিখোঁজ ও মৃত্যুবরণ করা সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন। রিজভীর দাবি, "সরকার বলছে রাষ্ট্রের সঙ্গে এ ঘটনার কোনো সংযোগ নেই। কিন্তু এমন বক্তব্য জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করছে। এটা কি বৃহৎ কোনো চক্রান্তের অংশ, সেটি খতিয়ে দেখা জরুরি।"
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "শেখ হাসিনার অধীনে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তম্ভ ভেঙে পড়েছে। ব্যাংক খাত থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত সবকিছু ধ্বংসের পথে। এখন আবার পিআর পদ্ধতির মতো অচেনা কাঠামো চাপিয়ে দিলে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।"
মেগা প্রকল্পের ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রিজভী। বলেন, "মেগা প্রকল্পে ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হয়েছে। এ নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের অডিট জরুরি। দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।"
সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভূঁইয়া, বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ও সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন।