রাজনীতি

আওয়ামী লীগ পরিবার ত্যাগ করা সেই শ্রাবণ এখন ধানের শীষের কান্ডারি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৭ পিএম

আওয়ামী লীগ পরিবার ত্যাগ করা সেই শ্রাবণ এখন ধানের শীষের কান্ডারি
ছবি: সংগৃহীত

পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত, অথচ তিনিই হয়েছেন বিএনপির রাজনীতির এক উদীয়মান মুখ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়েই রাজনীতিতে নাম লেখান জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। পরিবারের ভিন্ন মতাদর্শের কারণে একসময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যান প্রিয়জনদের কাছ থেকে। এখন সেই শ্রাবণ লড়বেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে।

সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের ২৩৭টি আসনে প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করেন। এর মধ্যে কেশবপুর আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ।

প্রায় একযুগ পরে গত ২০ সেপ্টেম্বর নিজ জন্মভূমি যশোরের কেশবপুরে ফিরে আসেন তিনি। সেদিন স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাসে সিক্ত হন এই সাবেক ছাত্রনেতা। বিএনপির ঘোষিত ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচি’ প্রচারণার অংশ হিসেবে কেশবপুরে লিফলেট বিতরণে অংশ নিয়ে শ্রাবণ ঘোষণা দেন- তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ বলেন, “আমার পরিবার ভিন্ন মতাদর্শের হলেও নির্বাচনে তার প্রভাব পড়বে না। দলে মনোনয়ন নিয়ে যে কোনো দ্বন্দ্ব থাকুক না কেন, আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ধানের শীষকে বিজয়ী করব এবং এই আসনটি তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচিত হলে কেশবপুরের বড় সমস্যা জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করতে চাই। কেশবপুরবাসীর হৃদয় জয়ই হবে আমার মূল লক্ষ্য।”

শ্রাবণের গ্রামের বাড়ি যশোরের কেশবপুর উপজেলার চিংড়া গ্রামে। ২০০৩ সালে কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠার পরই ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হয়ে পড়েন। মুহসিন হলে থাকাকালীন অল্প সময়ের মধ্যেই ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে তিনি পরিচিত মুখে পরিণত হন।

বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগে সান্ধ্য কোর্সে ভর্তি হন শ্রাবণ। সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে ২০২২ সালে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে ২০২৩ সালের আগস্টে ‘অসুস্থতার’ কারণ দেখিয়ে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে দুই মাসের মধ্যেই তাকে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়।

শ্রাবণের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তার বাবা কাজী রফিকুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা এবং কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনিই একসময় উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। শ্রাবণের বড় ভাই মুস্তাফিজুল ইসলাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন এবং বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বর্তমানে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত। আরেক ভাই মোজাহিদুল ইসলাম উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক এবং ছোট ভাই আজাহারুল ইসলাম উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক।

আওয়ামী লীগ পরিবারে জন্ম নিয়েও শ্রাবণ বেছে নিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ- বিএনপির রাজনীতি। পরিবারের রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থানে যাওয়ায় তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। দীর্ঘদিন পরিবারের বাইরে থেকেও রাজনীতির মাঠে নিজের অবস্থান পোক্ত করেন তিনি।

চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ একযুগ পর নিজ এলাকা কেশবপুরে ফিরে আসেন রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। তার আগমনকে ঘিরে উপজেলা জুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। মোড়ে মোড়ে ফুল হাতে অপেক্ষা করছিলেন নেতাকর্মীরা। প্রায় দেড় হাজার মোটরসাইকেল ও শতাধিক মাইক্রোবাসের বিশাল বহর নিয়ে তিনি কেশবপুরের বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণ করেন।

তবে জানা গেছে, কেশবপুরে ফিরলেও শ্রাবণ নিজের বাড়িতে যাননি এবং পরিবারের কারও সঙ্গেও যোগাযোগ রাখেননি। তিনি এখন পুরোপুরি বিএনপির রাজনীতিতে নিবেদিত, লক্ষ্য একটাই- ধানের শীষের জয় নিশ্চিত করা এবং কেশবপুরবাসীর আস্থা অর্জন করা।