রাজনীতি

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নোয়াখালীতে বিএনপি কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের হামলা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৫২ পিএম

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নোয়াখালীতে বিএনপি কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের হামলা
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় মারামারি মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের চার নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে হাতিয়া উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভৈরব বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, চরকিং ইউনিয়নের ব্রিজবাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ ডিসেম্বর রাত আটটার দিকে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মোজাক্কের বারীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবু তাহেরসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে হাতিয়া থানায় একটি মামলা করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, শনিবার সন্ধ্যায় ওই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তদন্ত শেষে পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবু তাহেরের অনুসারীরা ভৈরব বাজারে অবস্থিত বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে।

এ ঘটনায় আহত হন চরকিং ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য মো. সাহারাজ (৩২), ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী মো. রুবেল (৩৫), মো. মনির (৩৫) এবং হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সংগ্রহ কমিটির সদস্য কবির উদ্দিন (৪৮)। আহতদের মধ্যে সাহারাজকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. শামীম উদ্দিন জানান, “শনিবার রাতে চরকিং ইউনিয়ন থেকে হামলায় আহত সাহারাজ নামের এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।”

চরকিং ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মোজাক্কের বারী অভিযোগ করে বলেন, পুলিশকে ঘটনার তথ্য দেওয়ার পরই বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এতে চারজন নেতাকর্মী আহত হন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবু তাহেরের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে তিনি এবং তাঁর অনুসারীরা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।

হাতিয়া থানার ওসি মো. সাইফুল আলম বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে এর আগেও মারামারির ঘটনা ঘটেছিল এবং সে ঘটনায় মামলা রয়েছে। তবে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবগত নন বলে জানান। তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।