রাজনীতি

জুলাই চেতনার একক মালিকানা দাবি করলে নবীনদের রাজনীতি নবীনই থেকে যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১২ পিএম

জুলাই চেতনার একক মালিকানা দাবি করলে নবীনদের রাজনীতি নবীনই থেকে যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

চব্বিশের জুলাই আন্দোলন কিংবা জুলাইয়ের চেতনার একক মালিকানা দাবি করলে নবীনদের গঠিত রাজনৈতিক দল কখনোই বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরে এগিয়ে যেতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, জুলাইয়ের চেতনাকে কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। এটি সবার সম্মিলিত অর্জন। এ চেতনার একক মালিকানা দাবি করতে থাকলে একসময় তা সবার কাছ থেকেই হারিয়ে যাবে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের উদাহরণ টেনে বলেন, দেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি কিংবা রাজনৈতিক দলের কৃতিত্ব নয়। একইভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও কেউ এককভাবে নিজের বলে দাবি করতে পারে না।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যেমন আমাদের কারও একার কিংবা কোনো একক দলের কৃতিত্ব নয়, যারা স্বাধীনতার ঠিকাদার হতে চেয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের ঠিকাদার হতে চেয়েছিল, তারা রাজনীতিতে বিনাশ হয়েছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করতে করতে এখন দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে।’

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছু বিষয় রয়েছে, যা সর্বজনীন। সেসব বিষয়ের কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু নতুন প্রজন্মের যারা রাজনীতিতে এসেছে, তারা আবার জুলাইয়ের চেতনাকে নিজেদের একক অর্জন হিসেবে তুলে ধরছে। তাঁর ভাষায়, ‘২৪ আমাদের, ২৪ আমাদের-এভাবে দাবি করতে থাকলে ২৪ কাহারও থাকবে না, তোমাদেরও থাকবে না, কারওই থাকবে না। ২৪ সবার।’

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন হঠাৎ করে কিংবা মাত্র ৩৬ দিনে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন, নির্যাতন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ। এই দীর্ঘ সময়ে বহু পরিবার তাদের স্বজন হারিয়েছে। অনেক মা সন্তান হারিয়েছেন, অনেক স্ত্রী স্বামীকে হারিয়েছেন। এখনো অনেক গুম হওয়া ব্যক্তি ফিরে আসেননি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইলিয়াস এখনো ফিরে আসেননি। তাঁর মতো অনেকের ভাগ্যে সৌভাগ্য জোটেনি। যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন কিংবা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, তাঁদের পরিবারই জানে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পেছনে কতটা ত্যাগ ও সংগ্রাম রয়েছে। এসব আত্মত্যাগকে বাদ দিয়ে কেবল ৩৬ দিনের আন্দোলনের ভিত্তিতে কেউ জুলাইয়ের একক মালিকানা দাবি করতে পারে না।

নবীন রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে নিজেদের একক সম্পদ হিসেবে দাবি করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ, এই আন্দোলনে বিভিন্ন সময় ও পর্যায়ে বহু মানুষের অবদান রয়েছে। শুধু জুলাইয়ের ৩৬ দিনের ঘটনাকে সামনে রেখে চেতনার মালিকানা দাবি করতে থাকলে নবীন রাজনৈতিক শক্তিগুলো বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই নবীন বন্ধুদের রাজনীতি নবীনই থেকে যাবে, কখনো আর বড় হতে পারবে না।’

আলোচনা সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও অফিসার্স ক্লাবের সভাপতি নাসিমুল গনি সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং সাবেক সচিব মো. মশিউর রহমান।