জাতীয়
পাহাড়ে কফি ও কাজুবাদাম চাষে অপার সম্ভাবনা রয়েছে: মন্ত্রী সাচিং প্রু
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে কফি, কাজুবাদাম ও রাম্বুটান চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু। তিনি বলেছেন, পরিকল্পিতভাবে এসব ফসলের চাষাবাদ বাড়ানো গেলে পাহাড়ি কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বান্দরবানের চিম্বুক রেঞ্জের বাবুপাড়ায় স্থানীয় এক কৃষি উদ্যোক্তার কফি প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় পাহাড়ি অঞ্চলে কফি চাষের সম্ভাবনা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রী।
সাচিং প্রু বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে কফি ও কাজুবাদাম চাষের প্রসারে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্থানীয় পাহাড়ি কৃষকদের ‘কফি, কাজুবাদাম ও রাম্বুটান গবেষণা, উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চাষাবাদের প্রাথমিক ধাপ থেকে শুরু করে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত কৃষকদের প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে কফি, কাজুবাদাম ও রাম্বুটানের বাগান গড়ে তুলতে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
পাহাড়ি জনপদে দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে দুর্গম এলাকার ম্রো পাড়াগুলোতে পানির সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু এলাকায় পানির ট্যাংক সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে পানিবাহী ট্রাকের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত সুপেয় পানি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এ কার্যক্রম সারা বছর অব্যাহত রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, পাহাড়ি এলাকার মানুষের দৈনন্দিন পানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ফলজ বাগান ও কৃষিকাজে সেচের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে পাহাড়ের প্রাকৃতিক পানির উৎস ঝিরিগুলো সংরক্ষণ ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সারা বছর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং কৃষিকাজে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কফি প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা স্থানীয় পর্যায়ে কফি উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত হন।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বান্দরবানের রুমা উপজেলার লংবাইতং পাড়া বৌদ্ধবিহার প্রাঙ্গণে আয়োজিত সীমা বিহার উৎসর্গ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।