রাজনীতি
আ.লীগের মতো জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ চায় জামায়াত ও এনসিপি
আওয়ামী লীগের মতো জাতীয় পার্টির (জাপা) রাজনৈতিক কার্যক্রমও নিষিদ্ধ দেখতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (৩১ আগস্ট) পৃথকভাবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে দুটি দলই জাতীয় পার্টির ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং তাদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।
যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, “জাতীয় পার্টির ব্যাপারে আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি, যেভাবে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেভাবেই জাতীয় পার্টির কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছে জাতীয় পার্টি। সেহেতু তাদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
একইসঙ্গে তিনি গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এই হামলা ন্যক্কারজনক। শুধু নিন্দা করে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছি, এর পেছনের ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
জামায়াতের পক্ষে বৈঠকে আরও অংশ নেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং ড. হামিদুর রহমান আযাদ।
অন্যদিকে, একই দিন রাতে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব সাংবাদিকদের বলেন, “গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনকে যারা বৈধতা দিয়েছে, তাদের মধ্যে জাতীয় পার্টি অন্যতম। তারা সরাসরি ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। তাদের নির্বাচনী পোস্টারে পর্যন্ত লেখা ছিল ‘আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী’। এতে পরিষ্কার বোঝা যায়, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে কার্যত কোনো পার্থক্য নেই।”
তিনি আরও বলেন, “যেহেতু সরকার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করেছে, সেহেতু আওয়ামী লীগের সহযোগী ও প্রকাশ্য সমর্থক হিসেবে কাজ করা জাতীয় পার্টির কার্যক্রমও অবিলম্বে স্থগিত বা নিষিদ্ধ করা উচিত।”
এছাড়া এনসিপি নেতা আরিফুল ইসলাম আদীব গত বছরের গণঅভ্যুত্থনে শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন, প্রবাসে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি, গুম কমিশনের রিপোর্টের বাস্তবায়ন ও তরুণদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসী অনেক সহযোদ্ধা অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে এখনো ২৫ জন সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইনি জটিলতায় আছেন। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি, যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে দেশে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, তাতে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে। ফলে তারা দাবি জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচন যেন গণপরিষদ নির্বাচনের মতো হয় এবং নতুন সংবিধান প্রণয়নের সুযোগ তৈরি হয়।
তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আদীব বলেন, “বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবরের পর যাদের বয়স ১৮ হবে, তারা ভোট দিতে পারবে না। অথচ আগামী নির্বাচনের সময় তাদের বয়স হবে ১৮। তাই আমরা চাই, ফেব্রুয়ারির মধ্যে যাদের ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারাও যেন ভোটার হতে পারে।”