রাজনীতি

স্কুলছাত্র গুলি খাবে তারপরেও আপনি ওসি থাকবেন, এটা ঠিক না: মনিরুল হক 


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম

স্কুলছাত্র গুলি খাবে তারপরেও আপনি ওসি থাকবেন, এটা ঠিক না: মনিরুল হক 
ছবিঃ সংগৃহীত

কুমিল্লায় মাদক কারবারির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথার আহমেদ প্রেমের মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। 

এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত থাকা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ারকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, আমরা সবাই তাদের (মাদক কারবারিদের) কাছে স্যারেন্ডার করে চলে যাই। আর না হয় কিছু একটা করেন বিজয়পুর যা হয়েছে। না হয় চলেন মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে ক্ষমতা ছাইড়া দেই। মাদক কারবারি থাকবে, একজন স্কুলছাত্র স্কুলে যেতে পারবে না, তারপর আপনি ওসি থাকবেন, আমি এমপি থাকব, এটা ঠিক না। কি জবাব দিবেন এই পরিবারের কাছে। মাদক কারবারিদেরকে বিচারের আওতায় আনা হবে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ৯টার দিকে নগরীর কাটাবিল এলাকায় আহত ইথান আহমেদের মায়ের সঙ্গে দেখা করে এসব কথা বলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।‌

সংসদ সদস্য বলেন, মাদক কারবারীদের ধরতে প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে কথা বলা হবে। তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে আমি ডিআইজি এবং কুমিল্লার এসপি সাহেবের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি রাতের মধ্যেই ফলাফল দেখতে চাই।

তারপর মনিরুল হক চৌধুরী আহত ইথান আহমেদের মা সোনিয়া আক্তারের সঙ্গে কথা বলেন। তার সঙ্গে কে কে আছে তার খোঁজখবর নেন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজে যোগাযোগ করে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। 

এ সময় আহত ইতারা আহমেদের মা বলেন, অপু এবং সাব্বির দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েকদিন ধরেই মারামারি চলছিল। আজকে আমি আমার ছেলেকে স্কুলে পাঠিয়েছিলাম। টিফিন দেওয়ার পর বাসায় আসার সময় আমার ছেলের পিঠে গুলি লাগে। আমার একটি মাত্র ছেলে। আমার ছেলের কিছু হলে আমি কি নিয়ে বাঁচবো।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর কাঁটাবিল এলাকায় মাদকবিরোধী মানববন্ধন কর্মসূচিতে হামলা ও গুলির ঘটনায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীর ইথান আহম্মেদ প্রেম (১২) ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। কাটাবিল উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে। সে নগরীর কাঁটাবিল এলাকার বাসিন্দা মো ইউনুস মিয়ার ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেন। এখন সে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।