রাজনীতি

পলাতক শেখ হাসিনাকে অডিও বার্তার সুযোগ দেওয়া ভারতের ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’: রিজভী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১১ পিএম

পলাতক শেখ হাসিনাকে অডিও বার্তার সুযোগ দেওয়া ভারতের ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’: রিজভী
ছবিঃ সংগৃহীত

পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া ভারতের ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ বা দ্বিমুখী নীতির বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।

আজ বুধবার (০৫ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং গত ১৭ বছরের আন্দোলনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী অভিযোগ করেন, ভারত এমন একটি বার্তা দিচ্ছে যে, অন্য কোনো দেশের পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি ‘ভারতপন্থী’ হন, তাহলে তার অপরাধও উপেক্ষিত হতে পারে। তিনি বলেন, “ভারতের এ ধরনের অবস্থান দ্বিমুখী নীতির প্রকাশ। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

তিনি আরও বলেন, দিল্লিতে ‘সাউথ এশিয়ান জার্নালিস্টস’-এর একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তার দাবি, বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি হওয়া সত্ত্বেও ভারত সরকার শেখ হাসিনার প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করছে। এমনকি ভিডিও বার্তা সম্ভব না হলেও অডিও বার্তা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, গত দেড় দশকে দেশে একটি “নির্মম ও নিষ্ঠুর ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা” গড়ে উঠেছিল। শেখ হাসিনাকে ইতিহাসের অন্যতম রক্তপিপাসু শাসক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, অতীতের স্বৈরশাসকদের সঙ্গে তার শাসনামলের বিভিন্ন দিকের পার্থক্য রয়েছে। তার ভাষায়, শেখ হাসিনার আমলে অর্থ পাচার, ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজারে অনিয়ম এবং সরকারি সম্পদ দখলের মতো ঘটনা ঘটেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের অন্তর্নিহিত শক্তির বিস্ফোরণ।” তিনি দাবি করেন, এ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের মানুষ গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

রিজভী বলেন, প্রয়োজন হলে এসব আদর্শ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আবারও ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেবে।