ধর্ম

কোরআন ও হাদিসে ভূমিকম্পের যে ভয়াবহতার কথা বলা হয়েছে


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:৪৯ পিএম

কোরআন ও হাদিসে ভূমিকম্পের যে ভয়াবহতার কথা বলা হয়েছে
ছবি কোলাজ: ঢাকাপ্রকাশ

ভূমিকম্প মহান আল্লাহর একটি নিদর্শন, যার মাধ্যমে তিনি বান্দাদের স্মরণ করিয়ে দেন তার অসীম শক্তি ও ক্ষমতার কথা। এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের অক্ষমতা, দুর্বলতা এবং মুখাপেক্ষিতার প্রতিফলন ঘটায়। পৃথিবীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো ভূমিকম্প, কারণ অন্যান্য দুর্যোগের পূর্বাভাস পাওয়া যায়, কিন্তু ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে আগে থেকে কোনো পূর্বাভাস সম্ভব নয়। ফলে এতে ব্যাপক জান-মাল ধ্বংসের সম্ভাবনা থাকে।

ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে, ভূমিকম্প কেবল প্রাকৃতিক ঘটনা নয়; এটি মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত এক ধরনের সতর্কবার্তা। এমন মুহূর্তে মানুষের উচিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করা।

পবিত্র কোরআনে ভূমিকম্পের ভয়াবহতা ও এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিভিন্ন আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন-

সুরা আরাফ (৯): “জনপদের অধিবাসীরা কি এতই নির্ভয় হয়ে গেছে যে, আমার আজাব রাত তাদের কাছে আসবে না, তারা গভীর ঘুমে থাকবে।”

সুরা আল-মুলক (১৬): “তোমরা কি নিশ্চিত হয়ে গেছো যে, যিনি আসমানে রয়েছেন তিনি তোমাদেরকে সহ এ জমিনকে ধ্বসিয়ে দেবেন না, অতঃপর আকস্মিকভাবে তা থর থর করে কাঁপতে থাকবে?”

সুরা আল-ওয়াকিয়াহ (৪-৬): “এ ভূমিকম্প তো কিছুই না। আসল ভূমিকম্প হলো, যখন জমিন প্রবল প্রকম্পনে কেঁপে উঠবে, পর্বতমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে, এবং তা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হবে।”

সুরা হজ (১-২): “কিয়ামত দিবসের ভূমিকম্প হবে মারাত্মক। সেই দিনে স্তন্যপায়ী মা তার সন্তানকে ভুলে যাবে, গর্ভবতী মাতৃগর্ভপাত করবে, মানুষকে মাতালের মতো দেখা যাবে। এ শাস্তি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।”

সুরা শুরা (৩০): “যে বিপদ-আপদই তোমাদের ওপর আসুক না কেন, তা তোমাদের নিজের হাতের কামাই; তবে আল্লাহ অনেক অপরাধ ক্ষমা করে দেন।”

সুরা যিলযাল: কোরআনের ৯৯তম সূরা, যা সরাসরি ভূমিকম্পের নামে পরিচিত। এর প্রথম আয়াতে কিয়ামতের মুহূর্ত এবং সেই সময়ের ভূমিকম্পের তীব্রতা বর্ণিত হয়েছে। আরবি শব্দ ‘যিলযাল’ অর্থ তীব্র কম্পন, যা মানবসভ্যতার পরিচিত সব ভূমিকম্পকে ছাড়িয়ে যায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ভূমিকম্প সম্পর্কে বলেছেন, “এই উম্মত ভূমিকম্প, বিকৃতি এবং পাথর বর্ষণের মুখোমুখি হবে।” একজন সাহাবি জিজ্ঞেস করলে, তিনি বলেন, “যখন গায়িকা এবং বাদ্যযন্ত্রের প্রকাশ ঘটবে এবং মদপানের প্রবণতা বাড়বে।” (তিরমিজি: ২২১২) এছাড়া, কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে ভূমিকম্পের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে।

ভূমিকম্পের কারণ সম্পর্কে হাদিসে জানা যায় যে, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ, জাকাতকে জরিমানা মনে করা, ধর্মীয় শিক্ষা ছাড়া বিদ্যা অর্জন, স্ত্রী ও পরিবারে অন্যায় আচরণ, মসজিদে শোরগোল এবং দুর্বল ব্যক্তির শাসন এসব দুর্যোগের সৃষ্টি করতে পারে। এমন অবস্থায় মানুষকে রক্তিম ঝড়, ভূমিকম্প, ভূমিধস, পাথর বর্ষণ ইত্যাদির জন্য প্রস্তুত থাকার কথা বলা হয়েছে। (তিরমিজি: ১৪৪৭)

অতএব বলা যায়, বর্তমানের ভূমিকম্পগুলো আল্লাহর প্রেরিত সতর্কবার্তার নিদর্শন। এগুলো মানুষের পাপ ও অপরাধের ফল এবং বান্দাদের সচেতন করার একটি মাধ্যম। আল্লাহ অতীতের জাতিকে ভূমিকম্পের মাধ্যমে ধ্বংস করেছেন, তাই সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।