ধর্ম

২৫ বছরের গবেষণায় বাংলাদেশি আলেমের অনন্য কীর্তি!


ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

২৫ বছরের গবেষণায় বাংলাদেশি আলেমের অনন্য কীর্তি!
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ইসলামি গবেষণা ও হাদিসচর্চায় নতুন মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে। বিশিষ্ট মুহাদ্দিস ও জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আব্দুল মতিন (হাফিজাহুল্লাহ) রচিত ‘কিফায়াতুল মুগতাযি ফি শারহি জামে তিরমিজি’-এর পূর্ণাঙ্গ ১৭ খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় ২৫ বছরের দীর্ঘ গবেষণা, অধ্যবসায় ও পাঠদানের অভিজ্ঞতার আলোকে রচিত এই আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশের আলেমদের কাছ থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক ইলমি সেমিনারে গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়। ‘হাদিস অনুসরণে সালাফের কর্মপন্থা: প্রসঙ্গ জামে তিরমিজি ও কিফায়াতুল মুগতাযি’ শীর্ষক এই আয়োজনে বাংলাদেশ, ভারত, সৌদি আরব ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশের আলেম, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা আবুল কাসেম নোমানি বলেন, ইমাম তিরমিজির সংকলনে হাদিসের পাশাপাশি ফকিহদের মতপার্থক্য ও দলিল বিশ্লেষণের একটি সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। মাওলানা আব্দুল মতিন তার গবেষণার মাধ্যমে সেই ঐতিহ্যকে আরও বিস্তৃত ও সুসংহত করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সভাপতির বক্তব্যে শায়খুল হাদিস মাওলানা আবুল বাশার বলেন, এই গ্রন্থ হাদিস পাঠদান ও দরসের পদ্ধতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এটি শুধু একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ নয়, বরং হাদিস শিক্ষার একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব ও হাদিস গবেষক মাওলানা আব্দুল মালেক বলেন, তিরমিজি শরিফের বহু ব্যাখ্যাগ্রন্থ অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়ে গেছে। তবে ‘কিফায়াতুল মুগতাযি’ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি হাদিসের ধারাবাহিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেছে এবং সালাফের মানহাজ ও মতভিন্নতার শিষ্টাচার বজায় রেখেছে। তার মতে, এটি হাদিস গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ শূন্যতা পূরণ করবে।

গ্রন্থকার মাওলানা আব্দুল মতিন জানান, ২০০১ সালে মালিবাগ মাদরাসায় পাঠদানের প্রয়োজন থেকেই তার গবেষণার যাত্রা শুরু। অর্থসংকটের কারণে তিনি লাইব্রেরি থেকে বই সংগ্রহ করে হাতে নোট তৈরি করতেন। করোনাকালে দীর্ঘ সময় রাত জেগে গবেষণার কাজ এগিয়ে নেন। তিনি বলেন, এই কাজকে তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম হিসেবেই দেখেন।

জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আব্দুল গাফফার বলেন, একটি শব্দের সঠিক ব্যাখ্যা নির্ধারণের জন্যও লেখক অসংখ্য মূল গ্রন্থ পর্যালোচনা করেছেন। ভবিষ্যতে তিরমিজি শরিফ নিয়ে গবেষণায় এই গ্রন্থ গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রন্থটির প্রথম কয়েক খণ্ড প্রকাশের পরই বিভিন্ন দেশ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আরব বিশ্বের প্রকাশনার ধাঁচে ১৭ খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ প্রকাশ করা হয়েছে।

সেমিনারে দেশ-বিদেশের আরও একাধিক আলেম গ্রন্থটির গবেষণাগত মান ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি গবেষণায় উৎসাহ দিতে নির্বাচিত ১০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে ‘কিফায়াতুল মুগতাযি’-এর পূর্ণাঙ্গ সেট বিনামূল্যে তুলে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি হাদিসচর্চার দীর্ঘ ঐতিহ্যে বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য অবদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।