সারাদেশ

মুরাদনগরে নারী নির্যাতন ও ভিডিও ছড়ানোর নেপথ্যে ‘দুই ভাইয়ের বিরোধ’


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৫, ০৪:০৬ পিএম

মুরাদনগরে নারী নির্যাতন ও ভিডিও ছড়ানোর নেপথ্যে ‘দুই ভাইয়ের বিরোধ’

কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীর ওপর বর্বর নির্যাতন এবং সেই ঘটনার অশ্লীল ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে উঠে এসেছে দুই সহোদরের পারিবারিক দ্বন্দ্বের চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন শাহ পরান নামের এক যুবক, যিনি প্রতিশোধ নিতে গিয়ে বড় ভাই ফজর আলীকে ফাঁসাতে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি সাজান বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

শুক্রবার (৪ জুলাই) সকাল ১১টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, ঘটনার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৩ জুলাই কুমিল্লার বুড়িচং থানার কাবিলা বাজার এলাকা থেকে শাহ পরানকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে, যা তদন্তের কাজে ব্যবহৃত হবে।

র‍্যাব জানায়, ভিকটিম নারী গত ২৬ জুন রাতে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফজর আলী সুদের টাকার অজুহাতে তার শয়নকক্ষে প্রবেশ করে। সেই সময় শাহ পরান পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার সহযোগীদের সঙ্গে ভিকটিমের বাড়ির আশপাশে ওঁত পেতে ছিল। কিছুক্ষণ পরই একই গ্রামের অনিক, আরিফ, সুমন, রমজানসহ আরও ১০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। তারা ভিকটিমকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে, শ্লীলতাহানী ঘটায় এবং পুরো ঘটনার অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

র‍্যাব-১১ এর অধিনায়ক জানান, দুই মাস আগে ফজর আলী ও তার ছোট ভাই শাহ পরানের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে গ্রাম্য শালিসে ফজর আলী জনসম্মুখে ছোট ভাইকে থাপ্পড় মারেন। এই অপমানের প্রতিশোধ নিতে শাহ পরান পরিকল্পনা করে কীভাবে ভাইকে ফাঁসানো যায়। এরই জেরে তিনি ভিকটিমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বড় ভাইকে সামাজিক ও আইনিভাবে বিপাকে ফেলতে চেয়েছেন।

তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার কিছুদিন আগে ভিকটিমের মা ফজর আলীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা সুদে ধার নেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ভিকটিমের মা-বাবা নিকটবর্তী একটি সনাতন ধর্মীয় মেলায় গেলে শাহ পরান সেই সুযোগ কাজে লাগান। ফজর আলীকে টাকা ফেরতের অজুহাতে ভিকটিমের ঘরে পাঠিয়ে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন।

এই ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে কুমিল্লার মুরাদনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় শাহ পরানসহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহ পরান তার অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। সে জানিয়েছে, ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই অপমানজনক ঘটনা সে ঘটায় এবং অন্যদের সহায়তায় তা বাস্তবায়ন করে।

আসামিকে মুরাদনগর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং তদন্তের স্বার্থে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।