সারাদেশ

সেন্ট মার্টিনে স্পিডবোট উল্টে মা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৩৩ পিএম

সেন্ট মার্টিনে স্পিডবোট উল্টে মা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিন দ্বীপ থেকে টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপে আসার পথে স্পিডবোট উল্টে এক মা ও তাঁর শিশু কন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে নৌপথটির ‘গরারচর’ বা 'গোলাচর' মোহনায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সেন্ট মার্টিন দ্বীপের মাঝরপাড়ার বাসিন্দা মরিয়ম আক্তার (৩৫) ও তাঁর ৬ বছর বয়সী শিশু মেয়ে মাহিমা খাতুন (৬)। তারা ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে টেকনাফ যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। স্পিডবোটটিতে চালকসহ মোট আটজন যাত্রী ছিলেন। 

দুর্ঘটনার পর চারজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মা-মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য দু'জন আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়জুল ইসলাম জানিয়েছেন, শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণে বদরমোকাম ঘোলারচর এলাকায় একটি ডুবোচরের সৃষ্টি হয়েছে। জোয়ারের সময় অদৃশ্য থাকা এই ডুবোচরেই দ্রুতগতির স্পিডবোটটি উল্টে যায়। কিছু সংবাদে প্রবল ঢেউয়ের আঘাতের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এই দুর্ঘটনা আবারও টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ এবং একজন সরকারি কর্মকর্তার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্তব্যে স্পিডবোট চলাচলের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটারের এই নৌপথে ৫০টিরও বেশি স্পিডবোট চলাচল করে, যার অধিকাংশই বৈধ লাইসেন্সবিহীন। চারজন ধারণক্ষমতার ছোট আকৃতির স্পিডবোটগুলোতে ৭ থেকে ১০ জন পর্যন্ত যাত্রী ওঠানো হয়। অধিকাংশ স্পিডবোটে লাইফ জ্যাকেটই রাখা হয় না।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিব হাসান চৌধুরী জানান, দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং কীভাবে স্পিডবোটটি উল্টে গেল, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সম্প্রতি স্পিডবোটগুলোকে লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছে।