সারাদেশ

সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজে ভয়াবহ আগুন, নিহত ১


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:১৯ এএম

সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজে ভয়াবহ আগুন, নিহত ১
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটসংলগ্ন বাঁকখালী নদীতে সেন্ট মার্টিনগামী একটি যাত্রীবাহী জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাহাজের এক কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে জাহাজের ক্রুসহ ১৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে ‘দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ’ নামের জাহাজটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। যাত্রী বহনের উদ্দেশ্যে ঘাটে নোঙর করার ঠিক আগমুহূর্তে হঠাৎ আগুন ধরে যায় জাহাজটিতে। মুহূর্তের মধ্যেই নদীর মোহনায় জাহাজটি দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে।

নিহত কর্মচারীর নাম নুর কামাল (৩৫)। জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি জাহাজের একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে ফায়ার সার্ভিস তার সম্পূর্ণ ভস্মীভূত মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পর স্থানীয়রা ট্রলার ও স্পিডবোটের মাধ্যমে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে জাহাজের ক্রু ও অন্যদের নিরাপদে তীরে নিয়ে আসেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না এলেও ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট, কোস্টগার্ড এবং প্রশাসনের স্বেচ্ছাসেবক দল আগুন নির্বাপণে কাজ করে যাচ্ছে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। জাহাজে আর কেউ আটকা পড়েছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সি ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, আজ জাহাজটিতে করে ১৯৪ জন পর্যটকের সেন্ট মার্টিন যাওয়ার কথা ছিল। তবে সৌভাগ্যক্রমে তারা তখনো জাহাজে ওঠেননি এবং ঘাটে অপেক্ষা করছিলেন। যাত্রীদের একটি অংশকে অন্য জাহাজে পাঠানো হয়েছে, বাকিরা পরদিন যাত্রা করবেন।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম জানান, যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে আগুন লেগেছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিকেলে জাহাজ মালিকদের সঙ্গে একটি সভার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার–সেন্ট মার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল শুরু হয়। নির্ধারিত ১২টি নির্দেশনা মেনে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক পরিবহনের জন্য ছয়টি জাহাজকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।