সারাদেশ

চট্টগ্রামের গ্যাস বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ৫, শঙ্কায় আরও ৪ জন


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম

চট্টগ্রামের গ্যাস বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ৫, শঙ্কায় আরও ৪ জন
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে সংঘটিত মর্মান্তিক গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনাটি পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের আবহ তৈরি করেছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৪৬ বছর বয়সী মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং ৩৫ বছর বয়সী আশুরা আক্তার পাখি। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের দুজনের শরীরই প্রায় শতভাগ দগ্ধ ছিল, যা শেষ পর্যন্ত তাঁদের জীবন রক্ষা অসম্ভব করে তোলে।

এর আগে একই দিন দুপুরে ৪০ বছর বয়সী সামির আহমেদ সুমনের মৃত্যু হয়। সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথম মারা যান নুরজাহান আক্তার রানী ও তাঁর ১৬ বছর বয়সী ছেলে শাওন। ফলে ধীরে ধীরে প্রাণঘাতী এই দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে পাঁচে পৌঁছেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চিকিৎসাধীন বাকি চারজনের অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। শরীরের বড় অংশ পুড়ে যাওয়ায় তাঁদের জীবন রক্ষায় চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে, তবে ঝুঁকি এখনও কাটেনি।

ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার ভোরে হালিশহর এইচ ব্লকের এসি মসজিদসংলগ্ন ছয়তলা ভবন ‘হালিমা মঞ্জিল’-এর তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, রান্নাঘরে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস জমে ছিল। ভোরের দিকে আগুনের সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সঙ্গেই জমে থাকা গ্যাস শক্তিশালী বিস্ফোরণে রূপ নেয়।

বিস্ফোরণের তীব্রতায় একই পরিবারের নয়জন সদস্য দগ্ধ হন। তাঁদের প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

এই দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত সবাই একই পরিবারের সদস্য। নিহতরা হলেন মো. সাখাওয়াত হোসেন, তাঁর স্ত্রী নুরজাহান আক্তার রানী, তাঁদের ছেলে শাওন, সাখাওয়াতের ছোট ভাই সামির আহমেদ সুমন এবং সুমনের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি।

এ ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন সাখাওয়াতের ১০ বছর বয়সী কন্যা উম্মে আয়মান স্নিগ্ধা, সুমনের দুই সন্তান- ৪ বছরের আয়েশা ও ৬ বছরের ফারহান আহমেদ আনাস এবং পরিবারের আরেক সদস্য শিপন হোসেন। তাঁদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

চট্টগ্রামের এই মর্মান্তিক গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। একই সঙ্গে রান্নাঘরে গ্যাস নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে সবাইকে।