সারাদেশ

অসুস্থ কর্মীকে দেখতে শটগান হাতে বিএনপি নেতা, ভাইরাল ছবিতে তোলপাড়


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ০১:০০ পিএম

অসুস্থ কর্মীকে দেখতে শটগান হাতে বিএনপি নেতা, ভাইরাল ছবিতে তোলপাড়
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক দলীয় কর্মীকে দেখতে গিয়ে হাতে শটগান নিয়ে বসে থাকার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু তাহের।

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অসুস্থ কর্মীর শিয়রে আগ্নেয়াস্ত্রসহ তার এই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নূর ছাফা সাবুকে দেখতে তার বাড়িতে যান আবু তাহের। সে সময় তার হাতে একটি দীর্ঘ ব্যারেলের শটগান ধরা ছিল, যা ছবিতে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। আবু তাহের সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনী সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, সাদা জুব্বা ও টুপি পরিহিত আবু তাহের অন্যদের সঙ্গে বসে আছেন এবং তার হাতে একটি শক্তিশালী ‘পাম্প-অ্যাকশন’ শটগান রয়েছে। অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ‘মসবার্গ ৫০০’ সিরিজ বা সমজাতীয় কোনো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মডেলের শটগান হতে পারে, যা সাধারণত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবহার করে থাকে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তির আগ্নেয়াস্ত্রের বৈধ লাইসেন্স থাকলেও তা জনসমক্ষে প্রদর্শনের কোনো আইনি সুযোগ নেই। আত্মরক্ষার প্রয়োজনে অস্ত্র বহন করা গেলেও তা সাধারণ মানুষের দৃষ্টির আড়ালে রাখা বাধ্যতামূলক। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট অস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে পারেন। এমনকি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির দায়ে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে আবু তাহের দাবি করেছেন, অস্ত্রটি তার লাইসেন্স করা বৈধ শটগান এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থেই তিনি এটি সাথে রেখেছিলেন। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ছবি ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

অন্যদিকে, সীতাকুণ্ড মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানিয়েছেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের কোনো প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।