সারাদেশ

ভারতে পালানোর সময় যশোর সীমান্তে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম

ভারতে পালানোর সময় যশোর সীমান্তে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের আলোচিত ব্যক্তি মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে নজরদারি ও অভিযান চালিয়ে আসছিল চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছেন। পরে যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় বুধবার গভীর রাতে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ধুমধুমপুর সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপুলিশ পরিদর্শক নাজিমুল হক। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই ডেভিড ইমনকে ধরতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। গত দুই সপ্তাহে ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার বাহিনীর কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।

নাজিমুল হক বলেন, সন্ত্রাসমুক্ত চট্টগ্রাম গড়ার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ। একই সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অন্যান্য সহযোগীদের ওপরও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং তাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশের দাবি, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, সশস্ত্র হামলা, আধিপত্য বিস্তার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। একই সময়ে তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগীকেও অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

সম্প্রতি একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং হামলার ঘটনায়ও ডেভিড ইমনের নাম সামনে আসে। ওই ঘটনার পর তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র, অস্ত্র সরবরাহ, চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক এবং বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রামে সক্রিয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক নির্মূলে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ডেভিড ইমনের পাশাপাশি তার অন্যান্য পলাতক ও সক্রিয় সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।