সারাদেশ

এক কোটি বলতেছি, এক কোটি নিব: সন্ত্রাসী ইমনের হুমকির অডিও ফাঁস


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২১ পিএম

এক কোটি বলতেছি, এক কোটি নিব: সন্ত্রাসী ইমনের হুমকির অডিও ফাঁস
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার হলেও তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে এখনো আতঙ্কে রয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এরই মধ্যে এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করে দেওয়া ইমনের হুমকির একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, “এক কোটি বলতেছি, এক কোটি নিব এক টাকাও কম হবে না।”

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে নগরের এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ীর কাছে মোবাইল ফোনে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন ইমন। প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়ে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি ওই ব্যবসায়ী তাকে ১০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন। তবে ভয়ে তিনি থানায় কোনো অভিযোগ করেননি এবং বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যেও কথা বলতে রাজি হননি।

ফাঁস হওয়া ৪৩ সেকেন্ডের অডিওতে ইমনকে আরও বলতে শোনা যায়, তার লোক গেলে দাবি করা টাকার এক টাকাও কম নেওয়া হবে না। এমনকি দেশের শীর্ষ ব্যক্তির নাম ব্যবহার করেও কোনো লাভ হবে না বলে হুমকি দেন তিনি। ব্যবসায়ীকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দিয়ে ইমন বলেন, বেঁচে থাকলে ভবিষ্যতে আরও টাকা আয় করা যাবে, কিন্তু প্রাণ না থাকলে সেই টাকার কোনো মূল্য নেই।

এ ঘটনায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠনের চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক রাজীব শাহরিয়ার জানান, দীর্ঘদিন ধরে নগরের অনেক আইএসপি প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তাহীনতার কারণে সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিয়ে আসছে। ভয়ে তারা পুলিশ বা সংগঠনকে বিষয়টি জানাতেন না। তবে বর্তমানে পুলিশ প্রশাসন ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছে, কেউ চাঁদাবাজির শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য।

তিনি আরও বলেন, ইমনদের মতো চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা জামিনে বের হয়ে আবারও যেন আতঙ্ক সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংসহ সব ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, চাঁদাবাজি বা হুমকির ঘটনায় ভুক্তভোগীরা জানালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার সহযোগীদের ধরতে অভিযান চলছে।

গত ২৯ জুলাই যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর সময় তিন সহযোগীসহ ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

পরে ফটিকছড়ি থানার হত্যা ও অস্ত্র মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তার ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে ইমন পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি মাসে গড়ে প্রায় এক কোটি টাকা চাঁদা আদায় করতেন। এর অর্ধেক বিদেশে থাকা সাজ্জাদ আলীর কাছে পাঠানো হতো, বাকি টাকা নিজের কাছে রাখতেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজির আগে ব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এরপর বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে গুলি ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হতো। টাকা না দিলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটত বলে স্বীকার করেছেন ইমন।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরের বাসিন্দা ইমন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর দলে যোগ দেন। পরে দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।