সারাদেশ
এনসিপি নেতার অনৈতিক সম্পর্কের ছবি ও অশ্লীল ভিডিও ফাঁস
মাদারীপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, ব্ল্যাকমেইল, অর্থ আত্মসাৎ এবং অনৈতিক সম্পর্কের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। ফাঁস হয়েছে একটি অশ্লীল ভিডিও কল রেকর্ড ও কিছু ছবি। অভিযুক্ত এনসিপি নেতা মেরাজুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্র বলছে, রাজৈর উপজেলার শংকরদী গ্রামের বাসিন্দা মেরাজুল একসময় বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। অনিয়ম ও নারীঘটিত কেলেঙ্কারির অভিযোগে চারটি স্কুল থেকে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর তিনি যোগ দেন এনসিপিতে। বর্তমানে তিনি জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভুক্তভোগীদের একজন নারী অভিযোগ করে বলেন, ‘বিয়ের প্রলোভনে আমাকে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান। পরে আমার ফোন থেকে গোপনে ছবি নিয়ে তা দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। শুরুতে ২ লাখ টাকা নিয়েছেন। এখন আরও হুমকি দিচ্ছেন।’ এ বিষয়ে ওই নারী রাজৈর থানায় ও সেনাবাহিনীর একটি ইউনিটে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ৬ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের ভিডিও কল রেকর্ডে এক নারীকে উদ্দেশ করে অভিযুক্ত নেতাকে অশালীন ভাষা ব্যবহার করতে শোনা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে থ্রি-ডি ডিজিটাল স্কুলের পরিচালক আরিফুজ্জামান টিপু বলেন, ‘স্কুলের টাকা আত্মসাৎ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসদাচরণ- এসবের কারণে আমরা তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করি। এরপর তিনি আরও কয়েকটি স্কুল থেকে একই কারণে চাকরি হারিয়েছেন।’
এদিকে, এনসিপি নেতা মেরাজুলের বিরুদ্ধে এক ইউপি সদস্যকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে টাকা দাবি করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। অভিযোগকারী ইউপি সদস্য মোখলেস মিনা বলেন, ‘নাম কেটে দেওয়ার নামে টাকা চাওয়া হয়েছে। তারা তালিকা বানিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। মুখ খুললে আরও হয়রানির ভয় আছে।’
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মেরাজুল ইসলাম বলেন, কিন্ডারগার্টেন স্কুল, নারীদের কুপ্রস্তাব, অবৈধ বালু ব্যবসা ও মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার বিষয়গুলোর মধ্যে কোনটাই সত্য না। সব জায়গায় আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। যদি কেউ বলতে পারে তাহলে আমি মেনে নেব। তবে ফাঁস হওয়া অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিও রেকর্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার একটা ফোন হারিয়ে গেছে। ওই ফোনে কি ছিল' না ছিল' তা আমি জানি না।
এনসিপি মাদারীপুর জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী আজগর শেখ বলেন, ‘দলে নানা পেশার মানুষ যোগ দিচ্ছেন। কেউ যদি অনৈতিক কিছু করে থাকেন, সেটির বিরুদ্ধে কেন্দ্রকে অবগত করা হবে।’
রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল হক বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাহাঙ্গীর আলম জানান, মিথ্যা হয়রানির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।