সারাদেশ
টানা শৈত্য প্রবাহে বিপর্যস্ত চুয়াডাঙ্গার জনজীবন
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা চুয়াডাঙ্গায় টানা শৈত্য প্রবাহে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চলতি মৌসুমে জেলার তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। মাঝারি থেকে মৃদু শৈত্য প্রবাহের সঙ্গে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষ।
গত দুই সপ্তাহ ধরে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্য প্রবাহ। এই সময়ের মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই আকাশ ছিল মেঘলা ও কুয়াশাচ্ছন্ন, সূর্যের দেখা মেলেনি বললেই চলে। দুপুরের দিকে কখনো কখনো সূর্য সামান্য উঁকি দিলেও তাতে তাপের তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। চারপাশজুড়ে বিরাজ করছে ঘন কুয়াশা।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৬টা ও ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। চলতি মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রেকর্ড করা হয়েছিল ৮ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দিন দিন তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা বাড়ছে। উত্তরের হিমেল বাতাস অব্যাহত থাকায় জনদুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়েছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশাচালক ও নিম্নআয়ের মানুষ শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন। অনেকেই খড়-কাঠ জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। তবে জীবিকার তাগিদে অনেকে কাঁপতে কাঁপতেই কাজে বের হচ্ছেন।
এদিকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক), বিভিন্ন এনজিও ও সামাজিক সংগঠন শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করছে। তবে চাহিদার তুলনায় এসব সহায়তা এখনও অপর্যাপ্ত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ মো. জামিনুর রহমান জানান, জানুয়ারি মাসজুড়েই এ ধরনের তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে এবং শৈত্য প্রবাহ আরও কয়েক দফা বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।