সারাদেশ

বেনাপোল বন্দরের ৩৭ নং শেড থেকে কোটি টাকার জব্দকৃত পণ্য গায়েব, বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য!


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১০:৪২ এএম

বেনাপোল বন্দরের ৩৭ নং শেড থেকে কোটি টাকার জব্দকৃত পণ্য গায়েব, বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য!
ছবি: সংগৃহীত

বেনাপোল স্থলবন্দরের একটি শেড থেকে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের জব্দকৃত ভারতীয় পণ্য রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কাস্টমসের জব্দ করা চালান থেকে দামি শাড়ি, থ্রি-পিস, বেবিওয়্যার ও প্রসাধনী সামগ্রী সরিয়ে সেখানে নিম্নমানের দেশীয় পণ্য রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মার্চ যশোরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাফা ইমপেক্স ভারত থেকে একটি চালান আমদানি করে। আমদানি নথিতে পণ্য হিসেবে বেকিং পাউডারের ঘোষণা দেওয়া হলেও কায়িক পরীক্ষায় প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, বেবিওয়্যার, ফেসওয়াশ, ক্রিম, লোশনসহ বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী পাওয়া যায়।

কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, এসব পণ্য মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে আমদানি করে ২ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৫ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে চালানটি জব্দ করে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রাখা হয় এবং আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত খালাস না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, কোরবানির ঈদের ছুটির মধ্যে বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে রাখা জব্দকৃত চালান থেকে দামি ভারতীয় পণ্য সরিয়ে ফেলা হয়। পরে সেখানে দেশীয় নিম্নমানের পণ্য রাখা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে শুল্ক গোয়েন্দারা অনুসন্ধান শুরু করেন।

গত ২ জুন বন্দর ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পুনরায় চালানটি পরীক্ষা করা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, জব্দ করা ভারতীয় পণ্যের পরিবর্তে দেশীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামযুক্ত কার্টন, সংবাদপত্রে মোড়ানো পণ্য এবং কুরিয়ার সার্ভিসের স্টিকারযুক্ত বস্তা পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, পণ্যগুলো দেশের ভেতর থেকেই সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে জব্দ পণ্যের পরিবর্তে দেশীয় পণ্য সেখানে রাখা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ হারিয়ে যাওয়া পণ্যের বিপরীতে ২ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৫ টাকার রাজস্ব পরিশোধের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কেও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. শামীম হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। শেড ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহজালালকে প্রত্যাহার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, বন্দরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকা তালাবদ্ধ শেড থেকে কয়েক কোটি টাকার পণ্য সরিয়ে নেওয়া অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। পুরো ঘটনায় সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে।