সারাদেশ
পরকীয়ার অভিযোগে গ্রামবাসীর হাতে আটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া
নেত্রকোনা সদর উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে গ্রামবাসী আটক করে সালিশের মাধ্যমে শাস্তি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাতে নন্দুরা বাজারে একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে বসা ওই সালিশে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ও এলাকাছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রিপন মিয়া দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মোক্তাল হোসেনের ছেলে। তিনি পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় এবং পেশায় কাঠমিস্ত্রি। কয়েক বছর ধরে সামাজিকমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করে পরিচিতি পান তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক কিশোরীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করার পর গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ির পেছনে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে রিপনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি দুই ব্যক্তি দেখে ফেললে তাদের অর্থ দিয়ে বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা সালিশ ডেকে সমাধানের উদ্যোগ নেয়।
রোববার রাতে অনুষ্ঠিত ওই সালিশে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি অংশ নেন। সেখানে রিপন মিয়া অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান বলে জানা গেছে। এরপর তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং পাঁচ দিনের মধ্যে অর্থ পরিশোধের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।
সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রিপন উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চাইছেন এবং একপর্যায়ে একজন স্থানীয় নেতার পা ধরে মাফ চান।
তবে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ গ্রাম্য সালিশে নিষ্পত্তি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এমন ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করতে সাহস না পায়।
এদিকে সামাজিকমাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় এনসিপির এক কেন্দ্রীয় সংগঠক বলেন, ধর্ষণসহ এ ধরনের অপরাধ ফৌজদারি আইনের আওতায় পড়ে এবং এর বিচার আদালতেই হওয়া উচিত। রাজনৈতিক কার্যালয়ে বসে এমন অপরাধের নিষ্পত্তি করা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শামিল।
ভুক্তভোগীর বাবা জানান, তারা দরিদ্র হওয়ায় মেয়েটি প্রায়ই বাড়িতে একা থাকত। এই সুযোগে অভিযুক্ত তার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি প্রশাসনের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, ধর্ষণ বা নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা কোনো সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে এবং সালিশে জড়িত কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে আটক করার চেষ্টা চলছে।