সারাদেশ

ডিএনএ পরীক্ষায় মিল, ১১ বছরের শিশুর সন্তানের বাবা সেই মাদ্রাসাশিক্ষক


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম

ডিএনএ পরীক্ষায় মিল, ১১ বছরের শিশুর সন্তানের বাবা সেই মাদ্রাসাশিক্ষক
ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার মদনে ধর্ষণের শিকার ১১ বছর বয়সী এক শিশুর জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএর ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে। ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার পর এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে নবজাতকের সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকের ডিএনএর প্রায় সম্পূর্ণ মিলের বিষয়টি উঠে এসেছে। ইতোমধ্যে পরীক্ষার প্রতিবেদন জেলা পুলিশের হাতে পৌঁছেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, ফরেনসিক ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার পর অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক ও নবজাতকের ডিএনএর মধ্যে মিল পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার তারা প্রতিবেদনটি হাতে পেয়েছেন। তদন্তে কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে, সে জন্য কয়েকজন পরিদর্শককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।

জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি নুরুল কবীর জানান, নবজাতকের ডিএনএর সঙ্গে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। অভিযোগপত্র দাখিলের আগে রাষ্ট্রপক্ষের মতামত নেওয়া হয় এবং এ বিষয়ে তিনি মতামত দিয়েছেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে গেলে আদালত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে অভিযুক্ত শিক্ষক একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।

একপর্যায়ে শিশুটি অসুস্থ বোধ করলে এবং শরীরে পরিবর্তন দেখা দিলে তার মা বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে ১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা শিশুটিকে অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান।

এ ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা করেন। বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হলে র‌্যাব-১৪ ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরে ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

আদালতের নির্দেশে গত ১৭ মে অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

সেখানে ২ জুলাই শিশুটি একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়। পরে আদালতের নির্দেশে গত ২৯ জুলাই নবজাতক ও তার মায়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে নবজাতকের নমুনার মিল পাওয়ার পর মামলার তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আর নবজাতকসহ শিশুটি সিলেটের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে।