সারাদেশ

সাবেক ডিসি-অধ্যক্ষসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগে মামলা


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:১৫ এএম

সাবেক ডিসি-অধ্যক্ষসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগে মামলা
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ায় নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেও ঘুষ না দেওয়ার কারণে চাকরি না পাওয়ার অভিযোগে সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) হোসনা আফরোজসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত বিবাদীদের ব্যাখ্যা (কৈফিয়ত) তলব করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা জবাব না দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগ কার্যক্রমে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

জানা যায়, শহরের মাটিডালী এলাকার শাহাদত হোসাইন নামুজা এসএসআই ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ল্যাবসহকারী পদে আবেদন করেছিলেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় তিনি মোট ৩৪.৫০ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে নিয়োগ কমিটির স্বাক্ষরিত ফলাফলও তার হাতে পৌঁছায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ রুস্তম আলী শাহাদতকে ডেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৬ অক্টোবর স্থানীয় একটি পত্রিকায় একই পদে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরিস্থিতি জানাতে শাহাদত জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজার কাছে গেলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ না করে বরং কথিতভাবে তাকে কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরে তিনি লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অবশেষে কার্যকর সমাধান না পেয়ে শাহাদত ৯ অক্টোবর প্রথম সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা (নং–৭৩৯/২০২৫) দায়ের করেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, বিবাদীরা সাত দিনের মধ্যে জবাব না দেওয়ায় আদালত নিয়োগ কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেন। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ রুস্তম আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “চাকরি প্রার্থীর সঙ্গে আমার কোনো সাক্ষাৎই হয়নি।” তবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ জানান, অধ্যক্ষ রুস্তম আলীর বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং নতুন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

১৬ নভেম্বর দায়িত্ব হস্তান্তরের পর সাবেক ডিসি হোসনা আফরোজার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) শফিকুল ইসলাম টুকু জানান, “ডিসির ব্যক্তিগত নামে মামলা হয়নি; সরকারি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন মামলা প্রায়ই হয়ে থাকে।”

ঘটনাটি নিয়ে বগুড়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছে এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় স্থানীয়রা আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রেখে আছেন।