সারাদেশ

ঈশ্বরদীতে পুকুরে বস্তাবন্দি করে ৮ কুকুর ছানা হত্যা


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:৪৫ এএম

ঈশ্বরদীতে পুকুরে বস্তাবন্দি করে ৮ কুকুর ছানা হত্যা
ছবি: সংগৃহীত

পাবনার ঈশ্বরদীতে আটটি কুকুর ছানাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে হত্যার ভয়াবহ ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত পুকুরের পাড়ে ভাসমান অবস্থায় মৃত ছানাগুলোর বস্তা উদ্ধার করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তার স্ত্রী নিশি বেগম ছানাগুলোকে বস্তায় ভরে পুকুরে ডুবিয়ে দিয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবনের কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর জানান, পরিষদের একটি আবাসিক ভবনে থাকা একটি মা কুকুর সম্প্রতি আটটি ছানা জন্ম দেয়। রোববার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর ছানাগুলো হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গেলে মা কুকুরটি পাগলের মতো চারদিকে ছুটে বেড়ায় এবং সারারাত বিভিন্ন বাসার সামনে গিয়ে কাঁদতে থাকে। খাবার দিলেও কিছুই খায়নি। অত্যধিক মানসিক চাপে কুকুরটি অসুস্থ হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, সোমবার সকালে ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়ন মোটরসাইকেলে ছেলেকে নিয়ে বের হওয়ার সময় ছানাগুলোর বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি কিছু জানেন না জানান। তবে পাশে থাকা তার ছোট ছেলে জানায়- ‘আমার আম্মু কুকুরের বাচ্চাগুলো বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দিয়েছে।’ এরপর নয়ন দ্রুত সরে যান। পরে পুকুরের বস্তা খোলার পর দেখা যায়- আটটি ছানাই ততক্ষণে মারা গেছে।

ঘটনা সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে হাসানুর রহমান নয়ন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “এ ঘটনায় আমি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত। এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, “এ ধরনের নিষ্ঠুরতা খুবই অমানবিক। মা কুকুরটিও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ইউএনও মহোদয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।”

ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “পরিষদ চত্বরে এমন নির্মম ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা এই নিষ্ঠুর আচরণের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।