সারাদেশ
কুড়িগ্রামে ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে শতাধিক অসহায় পরিবারের কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি কার্ড ও সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে রাজিবপুর সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রাজিবপুর সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাসেল মাহমুদ জয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাজিবপুর সদর ইউনিয়নের ধুবালিয়া পাড়া, ধুলাউড়ি ও বাউল পাড়া গ্রামের অন্তত শতাধিক মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করেছেন।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাউকে ফ্যামিলি কার্ড, কাউকে ভাতা কার্ড, আবার কাউকে অন্যান্য সরকারি সুবিধার কার্ড করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। কারও কাছ থেকে ২৫০ টাকা, কারও কাছ থেকে ১ হাজার, ২ হাজার, ৩ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ধুবালিয়া পাড়ার এক যুবক জানান, “আমি নিজেই অন্তত ৩৫ জন ভুক্তভোগীর একটি তালিকা করেছি। শুধু এই তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকেই প্রায় এক লাখ টাকার মতো সংগ্রহ করা হয়েছে। গ্রামের সহজ-সরল ও নিরক্ষর মানুষদের লক্ষ্য করেই এই প্রতারণা চালানো হয়েছে।”
ধুবালিয়া পাড়ার অন্তত ২০ জন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে একই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন জহুরা খাতুন, আম্বিয়া খাতুন, হাবিবুর রহমান, জামাত আলী, লাভলী খাতুন, আখি খাতুনসহ আরও অনেকে। তারা বলেন, “কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছে। আজ পর্যন্ত কোনো কার্ড দেয়নি, টাকাও ফেরত দিচ্ছে না।”
কয়েকজন ভুক্তভোগী আরও জানান, টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত রাসেল মাহমুদ জয় তাদের বলেন, “১২ তারিখে বিএনপি সরকার গঠন করবে, তখন কার্ড দেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. রাসেল মাহমুদ জয়ের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে রাজিবপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোখলেছুর রহমান বলেন, “বিএনপি এখনো সরকার গঠন করেনি। বিএনপি এখনো কোনো ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু করেনি। জনগণের রায়ে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তখন দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর আগে কেউ যদি এ ধরনের প্রতারণা করে থাকে, সে আমাদের দলের শত্রু, সমাজের শত্রু ও দেশের শত্রু।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে টাকা ফেরত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।