সারাদেশ

বাংলাদেশ থেকে ভারতে কুকুর পাচারের অভিযোগ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম

বাংলাদেশ থেকে ভারতে কুকুর পাচারের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় বেওয়ারিশ কুকুর শিকার করে ভারতের মিজোরামে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিশেষভাবে তৈরি বাঁশের ফাঁদ ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকা থেকে কুকুর ধরা হচ্ছে এবং আকারভেদে প্রতিটি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, লংগদুর বিভিন্ন স্থান থেকে ধরা কুকুর নৌকাযোগে কাপ্তাই হ্রদ পাড়ি দিয়ে বরকল উপজেলায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে সীমান্তবর্তী পথ ব্যবহার করে ভারতের মিজোরাম রাজ্যে পাচার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মিজোরামের জনপ্রিয় বসন্ত উৎসব ‘চাপচার কুট’ সাধারণত মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হয়। কৃষিভিত্তিক এ উৎসবকে কেন্দ্র করে কিছু এলাকায় কুকুরের মাংসের চাহিদা বাড়ে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। আসন্ন উৎসবকে সামনে রেখে কুকুর শিকার ও পাচার বেড়েছে—এমন আশঙ্কা স্থানীয়দের।

বাংলাদেশে ২০১৯ সালের প্রাণী কল্যাণ আইন অনুযায়ী মালিকবিহীন কুকুর বা অন্য প্রাণী হত্যা কিংবা অপসারণ দণ্ডনীয় অপরাধ। একইভাবে ভারতে, বিশেষ করে মিজোরাম রাজ্যে কুকুর জবাই ও বিক্রি নিষিদ্ধ। ২০২০ সালের মার্চে মিজোরাম বিধানসভায় ‘মিজোরাম অ্যানিম্যাল স্লটার (সংশোধন) বিল, ২০২০’ পাস হয়, যার মাধ্যমে কুকুরকে জবাই বা ভোজ্য প্রাণীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

তবে কয়েকজন শিকারির দাবি, তারা বরকল উপজেলা থেকে এসেছেন এবং মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যেই কুকুর ধরেছেন।

রাঙামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. দেবরাজ চাকমা জানান, বসন্ত উৎসবকে কেন্দ্র করে মিজোরামের কিছু এলাকায় কুকুরের মাংস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। সে কারণে উৎসবের আগে কুকুর শিকারের প্রবণতা বাড়তে পারে।

রাঙামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯-এর ৭ ধারা অনুযায়ী মালিকবিহীন কুকুর হত্যা বা অপসারণ আইনত অপরাধ। তিনি সতর্ক করে বলেন, কুকুর জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগ বহন করতে পারে, ফলে বেওয়ারিশ কুকুরের মাংস খাওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোনো এলাকায় কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়া হলে সেখান থেকে কুকুর সরিয়ে নেওয়া হলে একটি শূন্যতা তৈরি হয়। এতে টিকাবিহীন নতুন কুকুর এসে জায়গা দখল করতে পারে। এ কারণেই নির্বিচারে কুকুর অপসারণ না করতে আইন করা হয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস পরিহারের আহ্বান জানান তিনি।