সারাদেশ
আ.লীগ নেতার নেতৃত্বে বিএনপির ৬ সমর্থককে কুপিয়ে জখম
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় পূর্বের রাজনৈতিক বিরোধ মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে বিএনপির ছয় সমর্থককে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাওন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ধানকাঠি ইউনিয়নের চৌধুরী বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
আহতরা হলেন—মালেক খান (৪০), নজরুল সরদার (২২), রমজান সরদার (৩৫), সামছুল সরদার (২৮), আলমগীর সরদার (৩২) ও মহাসিন সরদার (২৯)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের প্রথমে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধানকাঠি ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছিল। ঈদকে কেন্দ্র করে সেই উত্তেজনা আরও বাড়ে। অভিযোগ রয়েছে, বিরোধ নিষ্পত্তির কথা বলে শাওনের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে মালেক খানসহ কয়েকজন নির্ধারিত স্থানে গেলে তাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শাওন, রিফাতসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দ্রুত আলোচনায় আসে।
পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
ডামুড্যা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, “এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত শাওনের বাড়িতে আগুন দেয় এবং তার সহযোগী রিফাতের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি টিমও দায়িত্ব পালন করছে।
হঠাৎ এ সহিংস ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।